ভালোবাসা অনুভব করা যায় তাকে লিখে, কাউকে বলে বোঝানো যায় না

প্রকাশে গুরুত্ব কমে, গোপনে বাড়ে প্রেম।ভালোবাসার এই নিয়ম।

নিজের জন্য সময়টুকু আজ হয়েছে আজ অন্যের জন্য বরাদ্দ

আমরা আজ অন্যের জন্য ভাবতে ভাবতে নিজের জন্য ভাবতে ভুলে গেছি। নিজের জন্য সময়টুকু বরাদ্দ করেছি অন্যের জন্য কিন্তু নিজের প্রতি সেভাবে খেয়াল করা হয়ে ওঠেনি এমন ব্যস্ততা। লোকে কি ভেবে নেবে বা কি বলে দেবে এই ভেবে নিজেরাই নিজেদের বেঁচে থাকাটাই একটা লুকোচুরি খেলার মতো খেলে চলেছি নিজের জন্য। নিজের ভালোবাসা, ভালোলাগা বা শখ – আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে ফেলি অনায়াসেই। কিন্তু দিনের শেষে বদলানোর চেষ্টা করি কল্পনায় আঁকিবুকি কেটে। যদি চাইতেম না এতদিন তবে এত সুন্দর সময় নষ্ট হতো অকারণেই। অনেক ভালো হতো যদি বলে উঠতাম যা আজও বলিনি। এইভাবে দমবন্ধ হয়ে বেঁচে থাকি তবুও।

নারীর অলংকার না অঙ্গীকার, কোনটা নারীর উপহার

আমার মতে অলংকার শুধুমাত্র বহিরঙ্গের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছু করে না, কিন্তু অঙ্গীকার অন্তঃরঙ্গ ও বহিরঙ্গ দুইয়েরই সৌন্দর্যের পরিচায়ক। একজন সাধারণ মেয়েকে তার রুপের মাধুর্য অন্যরকমভাবে উপস্থাপনে অলংকার সাহায্য করে, অথচ অঙ্গীকার নিজেকে অন্যের কাছে অন্যরূপে মেলে ধরতে সাহায্য করে। অলংকার সাময়িক সৌন্দর্যবর্ধক উপচার, অন্যদিকে অঙ্গীকার চিরদিনের অপরূপ সৌন্দর্যের পরিচায়ক। আসলে আমরা চিরাচরিত অভ্যেসে নারীকে অলংকার দিয়ে সৌন্দর্যের মাপকাঠি বিচার করতে শিখিয়েছি আর তাই দৃষ্টিভঙ্গির বদল ঘটেনি বরংচ অঙ্গীকার ও যে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সে কথা তাকে বুঝতে দেওয়া তো দূরের কথা তার সংস্পর্শে আনা হয়নি বহু বছর এমনকি এখনও পুরোপুরিভাবে নয়। কেবল অলংকারে ভূষিতা ও শৃঙ্গারপ্রকাশেই তাকে আমরা প্রেয়সী, স্ত্রী, নারী, সহোদরা ও কন্যারূপে দেখে ও কল্পনার রঙে রাঙিয়েছি আর তাই বাস্তবে রূপ ধারণ করেছে। তার বাইরেও যে জগত আছে তার সঙ্গে পরিচয় করাইনি বহুদিন ধরে, তাই সে অঙ্গীকার নামক শব্দের সাথে অপরিচিত ও গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অন্ধকারে ছিল। তাই অক্ষমতার পরিচয়ে উপহাস করে চলি নিজেরাই জনসমক্ষে। তবে আগেকার দিনের তুলনায় এবার এখনকার সময়ে সঠিক শিক্ষার আলোকে শিক্ষিত, মননে- চিন্তনে উন্নত ও উদার মানসিকতার ছাপ রয়েছে এখনকার সময়ের বঙ্গনারীর বদলে যাওয়া ব্যক্তিত্বের ছটায়। তাই আমরা আজ পুরোনো একঘেয়ে মরচে পড়া চিন্তাভাবনা ছেড়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে নতুন আগামীর গল্প শুনছি ও উপভোগ করছি কোনোরকম দ্বিধাবোধ ছাড়াই। তাই জীবন আস্বাদনের পদ্ধতি বদলে গেলেও স্বাদ সেই একই আছে। তাই আমরা হাজার তর্কবিতর্ক করলেও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে অলংকার নয় অঙ্গীকার নারীর জীবনের মূল উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ অন্তরঙ্গ এ অলংকার নয় অঙ্গীকার সৌন্দর্যের পরিচায়ক, তাই সে তর্কের অবসান ঘটে। তাই অঙ্গীকারবদ্ধ হলে তার মান রাখতে জানে ও রাখেন। তাই যারা এখনও পর্যন্ত তাদের মানসিকতার বদল ঘটাওনি তাদের জন্য আন্তরিক সমবেদনা রইল আগামীর জন্য। বিকাশ ঘটবে এবার সম্পূর্ণরূপে নারীসত্ত্বাকে প্রকাশ করে অন্য রূপে সব ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ও বদলে ফেলুক সৌন্দর্যের সজ্ঞা যা ছিল আবহমান ধরে চলে আসছে। তাই এবার গল্প লিখবে ঘরে বাইরে সাফল্যের কলামে নারীর অঙ্গীকার। ©মেহুল শুনি🌱 ✒️

ফেলে আসা সময়ের গল্প

পথে চলতে চলতে হঠাৎই ভেসে আসা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ফেলে আসা সময়ের স্মৃতির মূর্ছনায় হারিয়ে যায় বর্তমানকে ছাড়িয়ে অতীতের ঘটনার ভীড়ে। কিছু ভালো-মন্দে মেশানো স্মৃতির মিশেলে তৈরি এই গল্পের ওঠানামা চোখে পড়ার মতো। চিরাচরিত চেনা ছন্দে রচিত আর চার পাঁচটা সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয় এ গল্পের নায়িকা। কিন্তু তার প্রতিভাবলে হঠাৎই চারপাশের বদলে যাওয়া মানুষের স্বার্থের আঘাতে একাকীত্বের অবসাদে ভোগা মেয়েটা দুম করে আচমকাই তার চেনা পরিচিত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। অতঃপর লড়াইয়ের ওঠানামায় সঙ্গী সঙ্গী হিসেবে কাছের মানুষ থাকে তোমার সবটুকু জেনেও, যারা কখনও একলা তোমাকে কোনো পরিস্থিতিতেই। তাই সবকিছু শেষ হয়ে আসলেও এরা ঘুণাক্ষরেও তোমায় জানতে দেয় না, বরংচ তোমার মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করে বেশি করে সময়ের তুলনায়। “হেরে মরে যাওয়ার থেকে লড়াই করে বেঁচে থাকাটা অনেক বেশি সম্মানের ও গর্বের -প্রীতি”। তাই জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত ব্যাখ্যা করে জটিলতা সৃষ্টি না করে সহজ সরল দৃষ্টিতে বিচার করলে জীবনের প্রত্যেকটি মুহুর্তের স্বাদ ভালোভাবে গ্রহণ করা যায় অনায়াসেই। তাই এসব কথা লিখতে লিখতে অকারণেই ছোটোবেলার স্মৃতি পথ ভুলে আসে আমার কাছে। আর তাই এটাকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব দুঃসাধ্য। শব্দের খেলায় আবেগের জলরাশির বিসর্জন দিয়ে তার ঢেউয়ের তালে ভেসে ভাবনারা প্রতিফলিত হয় লেখনীর কারুকার্যে। তাই তোমার অবহেলার প্রত্যুত্তরে অবহেলিত ভালোবাসা গর্জন করে ওঠে দারুণ রোষে আমার কবিতার অক্ষরে অক্ষরে। তাই অহংকারের আতিশয্যে কারো আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা করলে তার ফল একদিন তোমায় পেতেই হবে। তবুও একটা প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই খুঁজে পাই না, তা হলো কেন লিখি, কি লিখি, বা এর শেষ কোথায় আর শুরু হলো বা কেন? শুধু এটুকুই জানি নিজের অস্বস্তিকর অনুভূতি প্রকাশ করি লেখার মাধ্যমে যা পাহাড় প্রমাণ হয়ে জমে ওঠে দিনের পর দিন একাকীত্বের জন্য। তাই উত্তাল মাতাল শব্দের ঝড়ে ওলটপালট করে ফেলি স্বাভাবিক জীবনের শান্ত নদীর প্রবহমান নদীর স্রোতের গতি বদলে দিয়ে। তবুও মিথ্যে সান্ত্বনা জুড়ে কেবল তুমি আছো, আশেপাশে স্মৃতির মায়াজালের আবরণের সঙ্গ ছাড়া কিছু নেই, শুধু রয়েছে একরাশ নিঃসঙ্গ হাহাকার। তাই অনুভব এর প্রতিফলন ঘটে লেখনীর মাধ্যমে অনভিপ্রেত আত্মপ্রকাশে। আসলে যা বলা হয় না বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায় সেসব কথায় লিখি। কে ভেবেছিল চেনা ছকে বাঁধা সামান্য একজন সাধারণ মেয়ে আচমকাই তার চারপাশের পরিবেশের সাথে লড়াই করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে লড়াই করবে জেদের বশে যা অপূর্ণ ইচ্ছেপূরণের সিঁড়ি বেয়ে স্বপ্নের কুড়েঘরে বাসা বাঁধবে। একা একা পথ চলতে শিখে যাবে যে ছোটবেলায় অন্ধকারে ভয় পেতো। যেখানে চেনা মুখের মানুষের মুখোশ খুলে আসল রূপের পরিচয় পেয়ে শুধু হেসে চলে যায় সময়ের আদালতে আর্জি জানিয়ে। যে মেয়েটা সহজে কারো সাথে মিশত না দরকার না পড়লে কথা বলত না, সে আজ স্বভাব বদলে বিশ্বাস করার ভঙ্গি ও ধরণ বদলিয়ে নিজেকেই বিশ্বাস করে। চেনা পরিসর বদলে গেলেও তার ছোট্ট শিশুর মতো নিস্পাপ আমির মৃত্যু ঘটেনি বলেই বেঁচে আছে নয়তো সে কবেই মরে যেতো । তাই আজও মানুষের প্রতি বিশ্বাস বদলে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকার নিয়েছে আগের মোই। কারণ তাঁর নিজের মতো বাঁচতে শেখার মূলমন্ত্র তার জানা হয়েছে বলেই। তাই চেষ্টা করলেও নিজেকে বদলে ফেলতে পারেনি কোনোভাবেই। জীবনের ওঠাপড়ার চিত্রনাট্যের বদল ছাড়া আর সব কিছুই একই ছিল আর থাকবে। আর চার পাঁচটি মানুষের থেকে আলাদা হলেও সোনার মতো মনের জন্য সে আজও অনেকের কাছের মানুষ। আর কোনো নতুনত্ব ছাড়াই সে নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছে দেরিতে হলেও। স্বার্থের কলুষিত স্পর্শ তাকে ছুঁতে পারেনি কোনোদিনই। তাই নিজের মতো বাঁচার যে আনন্দ আছে তাতে আর কোনোকিছুতেই নেই।

অপেক্ষারা আজও হৃদয়ভাঙার গল্প বলে যে প্রেমিকা অ- প্রেমে বঞ্চিত থাকে ভুল মানুষকে ভালোবেসে

“অপেক্ষা” শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়। এটির অবসানে শুধু মিলন নয় বিচ্ছেদ ও সংঘটিত হয়। তাই এর আশ্চর্য সমাপতনে চেনা পরিচিত গল্পের মোড় দিক বদলে ফেলে আচমকাই মুহুর্তের চমকে। এটি হাজারের বেশি সম্পর্কের অবনমনে বদলে যাওয়া সমীকরণে বিচ্ছেদ আবার এক নিমেষের ফেরে সাক্ষী হিসেবে রয়ে যায় চিরবসন্তের চিরন্তন সত্য হয়ে যে শুধু ভালোবাসা রুপে বিখ্যাত হয়ে ওঠে যুগে যুগে। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম ত্যাগের ওপর নির্ভর করে তাই অস্বীকার করে এড়িয়ে যেতে কেউ পারে না আজও আর পরবর্তীতে ও পারবে না। একজন ছেলে যে তার সবটুকু দিয়ে ভালোবাসে একটা মেয়েকে কিন্তু একসময় সেই মেয়েটিই তার ভালোবাসাকে অবহেলায় হাত দিয়ে দূরে ঠেলে দিয়ে স্বার্থের জন্য অন্যের কাছে চলে যায় আর যাইহোক তাকে ক্ষমা করা খুব কষ্টের কারণ। আবার উল্টোটাও ঘটে চেনা ছকের গল্পে। হৃদয়বিদারক বিচ্ছেদের ক্রমবর্ধমান হারের হিসেব কষলে শুধু বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকেই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে, অনেকে ক্ষমা করে দেয় গান, নাচ,লেখা,আবৃত্তি আরো অনেক কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখে, আবার অনেকে নেশায় ডুবে ভুলে যেতে চেষ্টা করে। রক্তাক্ত হৃদয়ের ক্লান্ত অনুভূতি গল্প বলে নিঃশব্দে গুমরে মরা কান্নায়। যা আমরা সাময়িকভাবে সান্ত্বনা দিই ঠিকই কিন্তু ক্ষত এ কোনো প্রলেপ দেওয়া হয় না তা দিয়ে। কারণ একসময় চিরাচরিত অভ্যেসে ব্যঙ্গাত্মক কথায় তাকে করুণার দৃষ্টিতে অনুকম্পা প্রদান করি। যা আসলে হাস্যকর ঠেকে একসময়, দিনের শেষে তুমি যখন নিজে একইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে তখনই এ নিদারুণ দুঃসহ যন্ত্রণার মর্ম বুঝবে নইলে তার আগে কিছুতেই নয়। এ শহরের অলিগলি শুধু প্রেম, বিচ্ছেদ নয় একতরফা সম্পর্কের দায়ভারে বিপর্যস্ত মানুষগুলোর অবসাদে একাকী দিন কাটানোর গল্প বলে। যেখানে অপেক্ষারা কোনো ক্যাফে, বইপাড়ায়,নিস্তব্ধ দুপুরের অলিগলিতে পাড়ার মোড়ে আবার চেনা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আড্ডার জায়গাও হতে পারে যা আমাদের চেনা পরিধির ভেতরেই অবস্থান করে। এ শহরের অনেক গল্পই লোকের মুখে মুখে কিন্তু “অপেক্ষা” নামক শব্দের মাধ্যমেই কেবল প্রকাশিত। কিন্তু এতে বেসামাল জীবনের মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে সবকিছু বিসর্জন দেওয়ার মুহুর্তের সাক্ষী কেউ হয় না কখনও ভুল করেও। শহরের ঘুমন্ত শরীরে গুমড়ে মরা কান্নার শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ লেগে থাকে, যা মুছে ফেলা যায় না কোনোমতেই। “অপেক্ষারা জন্ম দেয় ফিনিক্স পাখির মতো পুরোনো সত্বা পুড়িয়ে নতুন করে জন্ম নেওয়া মানবের, যাদের আমরা চিনতে না পেরে বদলে যাওয়ার তকমায় ভূষিত করে নিজেদের চূড়ান্ত মূর্খামির পরিচয় দেয়। ” ©মেহুল☘ শেষ হোক এবার তবে এই হৃদয়ভাঙার গল্পের সমাপ্তি ঘোষণার মাধ্যমে। আশা করব একদিন বদলে যাবে এই শহরের চেনা চিত্রনাট্য যা দুঃসহ শুন্যতার ক্যানভাসে রাত্রির গল্প বলে রোজ আবহমানকাল ধরে চলে আসা রীতির রেওয়াজ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। ©অবুঝ পাখির মেহুল🌱 ✒

প্রকৃতির সাথে একাত্মতা

প্রকৃতির মতো করে কেউ তোমায় আপন করে মায়ের মতো আগলে কেউ রাখবে না, এমন নিঃশব্দে নিঃশর্তভাবে কেউই ভালোবাসতে পারবে না তোমায় কোনোদিন কোনোভাবেই ।তোমাকে অনাবিল শান্তি দেবে, তোমার সব কথা চুপ করে শুনে যাবে নিভৃতে, কোনো তর্কে বা ঝামেলায় জড়িয়ে তোমার অযথা দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। তোমায় কখনও ভুলেও একমুহূর্তের জন্যও বিন্দুমাত্রও কষ্ট দেবে না। বরং তোমার মনখারাপের সময়ে শীতল বাতাসের স্পর্শে পাশে থেকে হাত বুলিয়ে দেবে জ্বরের সময়ে। ফুলের গন্ধ উপহারে দেবে সন্ধ্যায় তোমায় নিঃসঙ্কোচে ভালোবাসার অঙ্গীকারে। শুধু তুমি একবার সাহস করে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে দেখো বদলে শুধুই ভালোবাসা পাবে। কোনোদিন কোনোভাবেই তোমাকে ছেড়ে যাবে না বরংচ আমৃত্যু তোমার সঙ্গী হিসেবে রয়েছে যাবে কেবল। শুধু তার নিঃশব্দের গল্পগুলো একটুখানি ভালোবাসা ও মনোযোগ সহকারে শোনো তাহলেই হবে। অকারণে তোমায় কোনোরকম ভুল বুঝবে না রে আবেগের বশে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য শুধু নয় অকৃত্রিম ভালোবাসার অফুরন্ত ভান্ডার প্রকৃতি যা তোমাকে নিজের ভেতর লুক্কায়িত “আমি”-র খোঁজ থেকে শুরু করে আত্মবিশ্লেষণে নতুন “আমি”-র সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠায় অনাবিল আনন্দে আত্মহারা হয়ে আনন্দে ভাসায়। যার সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা করা চূড়ান্ত পর্যায়ের ধৃষ্টতার সামিল। বৃষ্টির ফোঁটায় সময়ে ভালোবাসার স্পর্শে আবার কান্না হয়ে দুঃসহ দুঃখের সময় সহমর্মিতার স্পর্শে চিঠি পাঠায়। শুধু তোমার অনুভূতিতে প্রকৃতির একীভূত অস্তিত্ব অনুভব করে দেখো, ঠকবে না বরংচ আখেরে তোমার ভালোই হবে। মানুষের মতো তোমায় কোনোরকম আবেগের চড়াই-উতরাইয়ে একা ফেলে তোমার কোনো দূর্বলতার সুযোগ নেবে না। এটুকুই বলার ছিল যে নিজেকে ভালোবেসে প্রকৃতির সাথে কাটিও জীবনের প্রতিটি দিন। অন্যরকম ভালোলাগার নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করার মধ্য দিয়ে জীবনের চেনা পরিসরের বাইরে গিয়ে রামধনুর ছোঁয়া থাকবে যা কালো মেঘের হাতছানি এলেও তা এড়িয়ে যেতে পারবে অনায়াসেই নির্দ্বিধায় নিঃসঙ্কোচে।

লেখা তবে কেন করে রোজ তোমার খোঁজ শব্দের অনুভবে

তুমি শব্দ না উৎস কবিতার। জানি না তবুও তোমার কথা মনে এলেই কথার বন্যায় ভাসে লেখনী। লিখে চলে রোজ স্বপ্নের রোদ্দুরে ভরা মৌসুমে শান্তির শিশির বিন্দু। সমুদ্রের তীরে যেমন একাকী প্রান্তর, তার মতোই একা আমিও। তোমায় ছাড়া দিকভ্রান্ত নৌকার মাঝি উপন্যাসের উপস্থাপনা করে ফিরি।শহরের শেষ রাতে মৃদু নিয়নের আলোয় তাই লিখি লিখেই চলি যা আছে ভরাট হয়ে। বন্ধুহীন ক্যানভাসে বন্ধু হয়ে ওঠা কলমের কালি বুনি নদীর কাহিনী সংক্ষেপ। তবুও তৃষ্ণা মেটে না, লিখে আশ মেটে না ঠিক যেমন তোমায় ছুঁতে চেয়েও না পারার ইচ্ছে যেমন কূলকিনারা পেয়েও পায় না। কেমন যেন মায়াভরা চোখে অপেক্ষা করে তোমায় দেখবে বলে, আশ মিটিয়ে ভালোবাসবে বলে। তোমার কাঁধে মাথা রেখে নদীর অজস্র ঢেউ গুনবে বলে। তোমার জন্য সাজবে বলে, বলে উঠবে বলে

“ওভাবে কার দিকে চেয়ে আছো অপলক চোখে”

তুমি হেসে উঠবে বলে তোমার দিকে। এমন সুন্দর সাজ কার জন্য মায়াবিনী হরিণী।।

এভাবে মুহুর্তে হারিয়ে যাব দুজনের চোখে চোখ রেখে সময় ভুলে।©মেহুল শুনি🧡✒️

ভাবিনি কখনো এমন হবে

পুরোনো বন্ধুদের নতুন করে খুঁজতে ইচ্ছে হবে,পুরনো গল্প আউড়ে আবার হাসতে হাসতে কেঁদে ফেলব আবারও, আবারও শুরু থেকে শেষ হয়েও কেমন যেন ফিরতে ইচ্ছে হবে, তবুও ফেরা হবে না কখনো, বিগত পাঁচ বছর ধরে যাদের আপন ভেবে ঝগড়া, আহ্লাদ করেছি, অভিমানে যাদের ওপর ঠোঁট ফুলিয়েছি, ভালোবেসে আবদার করেছি, পাওয়া না পাওয়ার গল্প জমিয়েছি স্মৃতির পাতায়। গ্রীষ্মের দাবদাহে যেন সব শুন্য করে দিয়ে গেলো, বলছে সময় ফুরিয়েছে তোমাদের, এবার এসো। নতুনদের যে সময় হয়ে এলো আসার, তাদের স্বাগত জানাতে হবে যে! আক্ষেপ শুধু একটাই তোমার পুরোপুরি হয়ে ওঠা গেলো কই, যাদবপুর ; তোমার সাথে ঘর ঘর খেলা এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে এটা কি কখনো ভেবেছি, শুধু জেনে এসেছি তুমি আমাদের একান্তই নিজের আছো, ভাবিনি বিচ্ছেদের হাহাকারে কান্নার দমকে চোখ ঝাপসা হয়ে উঠবে, আরো বেশি করে তোমায় জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করবে, বলে উঠতে ইচ্ছে করবে তুমি আমাদেরই আছো, প্রাক্তন বলে তোমার সাথে দূরত্ব বাড়বে এটা তো চাওয়ার ছিল না কখনো, কখনো বাংলা বিভাগের এক নম্বর ঘরে পথ চলার দিনটা দুম করে উনত্রিশ এপ্রিল সিলমোহর দিয়ে চলে যাবে বিদায়বেলার সম্ভাষণে, এ তো বড় অন্যায়;তবুও মেনে নিতে হবে এ যেন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের বিজ্ঞপ্তি , পুরনো খাতাপত্রের ধুলো সরিয়ে ক্লাসরুমের সেই ঠাট্টাগুলো মনে পড়বে কিন্তু হাসিমুখ বদলে চোখের জল ঝরে পড়বে বলেই কি সেই শুরুর দিনের পথচলা।

বলতে ইচ্ছে হয় নিঃশব্দের তরী বেয়ে এসে

কত কিছুই তো বলতে ইচ্ছে করে চুপ করে একদিন, কিন্তু সে দিনটি যেন কিছুতেই আসতে পারে না সঙ্কোচের সীমানা পেরিয়ে। নিঃশব্দের তরী একা তীরে বসে ঢেউয়ের সাথে খেলায় মেতে ওঠে। তবুও অব্যক্ত ঠোঁটের কোণে শব্দ ফোটে না, অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞায়। কিসের জন্য কেউ জানে না, শুধু জানে বলতে নেই দুদিনের জন্য আসা জীবনের অতিথিকে।একান্ত গোপন মনের চিলেকোঠায় লুকিয়ে রাখতে হয় কঠোর নিয়মের কারাগারে বাস্তবের পাহারায়। নিষিদ্ধ সিনেমার মুহুর্তের মতো একান্ত গোপন অনুভবে শব্দ নিয়ে খেলার অনুমোদন আছে স্রেফ।এর বেশি কিছু চাইলে জীবন গর্দান নিয়ে যায় ছোট ছোট খুশিগুলোকে মুছে ফেলার আদেশে।

অপরাধ যদি হয় ভালোবাসা তবে হতে চাই বন্দী

তুলে রাখা সময়ের দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে মুক্তি দেয় ভালোবাসার উড়ান, তাই বন্দী হতে চাই আমরা বরাবরই। অন্ধের ষষ্ঠীর মতো প্রেমিক একমাত্র জীবনের অবলম্বন হয়ে ওঠে, ঠিক সূর্যের আলোর মতো, নদীর স্রোতের বিপরীতে চৌম্বকীয় আকর্ষণ টেনে নিয়ে চলে ভালোবাসার বদনাম পাবে জেনেও।।

Design a site like this with WordPress.com
Get started