দিন যায় এর সাহিত্য সমালোচনা

দিন যায় – এক সময়ের গল্প যা সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে…

ছেঁড়া তারে পুরনো প্রেমের সুরধ্বনি শুনতে চাওয়ার মতো অন্যায় বোধহয় কিছুই হয় না বলেই আমার মনে হয়। যেমনটা ঘটেছে সীতা ও মনোরম – এর বৈবাহিক জীবন ও পরবর্তীকালে বিচ্ছেদের মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘতম সেতুর মতো পাহাড় প্রমাণ অভিমানের শিখরকে গলিয়ে পুনরায় ফিরে আসা প্রেমের স্রোতের টানে ছুটে আসা।

মনোরম একজন ট্রমাটাইজড প্রেমিক, যার প্রেমিকসত্বা বারবার ধাক্কা খেয়েছে প্রশ্নরুপী কল্পনায় আঁকা দৈত্যের মতো ধেয়ে আসা মেয়েদের কাছে এসে। যাদের সে অনায়াসেই প্রেম নিবেদন করে যেত, কবিতা মাখা ভালোবাসার খাতা উপহার দিত বসন্তরঙা গোলাপের রঙে রাঙিয়ে।

সে বিভিন্ন ধরনের চাকুরী করেছিল ঠিকই, কিন্তু কোনোটাই সে স্থায়ীভাবে করে ওঠেনি কারণ কোনোটাই তার ঠিক মনের মতো হয়ে ওঠেনি। কারণ সেই সময় সীতার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পরে অ্যালিমনিতে সমস্ত খুইয়ে ফেলার পর।

তাদের মাঝে অভিমানের সুযোগে এল মানস, যাকে সীতা তার জীবনের দ্বিতীয় পুরুষ ভাবতে শুরু করে কিন্তু আসলে তার সত্বা তার মধ্যে মনোরমাকে খুঁজত।যেমন মনোরম ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে শিশুর মতো তাকে পরম নির্ভরতায় জড়িয়ে ধরত। সে সুন্দর করে সিগারেট খেত -এমনকি সেটাও সীতার পছন্দ ছিল বলে মানসকে সীতা খেতে শিখিয়েছিল নিপুণ দক্ষতায়। অথচ সন্দেহ, অভিমানের সুদৃশ্য প্রাচীর ভেদ করে তারা সত্যিকারের ভালোবাসার আস্বাদনের স্বাদ অনুভব করেনি কারণ তারা সেইখানেই পৌঁছতে পারেনি। কারণ দুজনেই দুজনের কাছে অদৃশ্য ইগোটাই বড়ো হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের দুজনের ভালোবাসার সম্পর্ক নয়। তাই তার কল্পলোকের মেয়ের মত বলতে ইচ্ছে করছে যে-     “সৎ লোকেরা কখনও সুখী হয় না।                তুমিও দুঃখী বোধহয়।                                                  আর দেখছি তুমি তেমন সবল হওনি,                   দৃঢ়চেতা হওনি, তাই না। “

তাই বুঝি কল্পলোকে বিচরণ করে নিজের অপূর্ণ ইচ্ছের চাবি ঘুরিয়ে বলে চলো কত কথা, যার কোনো শেষ নেই, নির্দিষ্ট কোনো অর্থ নেই। আছে শুধু পাগলামি। বলে রিনার কথা, যার প্রেমে মনোরম প্রথম পড়েছিল, যার কথা সে সীতাকেও বলেছিল। বলেছিল মেমসাহেব- বউয়ের কথা যে ছিল আদতে এক পুতুল বইকি আর কিছু নয়। রিনার মতো আর একজন ছিল তার জীবনে, যে মাঝরাতে এসে মশারি খুলে তাকে দেখত। যাকে সে কল্পনায় তার দেহ স্পর্শের অধিকার পেয়েছিল। যাকে মনোরম কবিতা শুনিয়েছিল, “মেরিলি দ্যা বেল, অ্যান্ড দে ওয়্যার ওয়েভ…।

তারপর বলেছিল চপলার কথা, যাকে ছাড়া অনাত্মীয়া কোনো মেয়ের গা কখনও ছুঁয়ে দেখেনি। চপলা তাকে চুমু খেয়েছিল, ঠিক যেন সঞ্জীবচন্দ্রের উপন্যাসের আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল ঠিক সেইসময় সেই মুহুর্তে।

অথচ তার জীবনে শুধুমাত্র সীতাই ছিল বাস্তবে প্রেয়সী, স্ত্রী ও জীবনসঙ্গিনী। তার জন্য ব্যবসা, কোম্পানি, টাকা-সোনা ও যাদবপুরের সেন্ট্রাল রোডের জমি সমস্ত কিছু দিয়ে দিতে হয়েছিল বিবাহবিচ্ছেদ – এর খোরপোষ স্বরূপ। তারপর থেকেই তার জীবনের উদ্দেশ্য, গতিপথ যেন সবকিছুই হঠাৎই বদলে গেল।

এরপরে সে হতে চায় কেবল বাবা মায়ের আদরের ঝুমু।

যে বারোমাস অসুখে ভুগেছিল, যার দরুণ রক্তহীন, সাদা ভগভগে এক শিশুর জন্ম হয়েছিল। যার ডান হাতে মাদুলি, গলায় কবচ। যে নির্বোধ, আর একটু অসহায়।

অথচ সে বীরু ওরফে মামাতো ভাইয়ের একজন রক্ষক হিসেবে থেকে যায় সম্পূর্ণ মনোরম হয়ে ওঠার আগেই ঝুমু নামের একজনের পরিচয়ের আড়ালে।

বীরু যে প্রচন্ড বেগে জীবনকে উপভোগ করতে ভালোবাসে। সে মেয়েদের সঙ্গ উপভোগ করে দেবরাজ ইন্দ্রের মতো। তবুও তার মধ্যে কোথাও যেন প্রেমিক সত্বা লুকিয়ে ছিল বেপরোয়া জীবনের উদ্দাম স্রোতে। তাইতো গৌরীর প্রতি তার কোথাও না কোথাও দূর্বলতার আভাস আমরা উপন্যাসে মাঝে মাঝে পাই। তবুও কন্ট্রাসেপটিভের ট্যাবলেট, মেয়েদের সাথে যৌন সম্পর্কের চরম উদ্দামতা তার ছিঁড়ে দিচ্ছিল স্বাভাবিক মানুষ ভাবতে গিয়ে।

এরপর সীতা হঠাৎই সমস্তকিছুই মনোরমকে ফিরিয়ে দিতে চায় কিন্তু অভিমানে সে আর নিতে চায় না।

“কারণ সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা মানুষের হয় তা টাকাপয়সার নয়, বিষয়-সম্পন্তির ও নয়। মানুষ হারায় তার সময়।

কারণ সম্পূর্ণ দাবিদাওয়া ছেড়ে সে সত্যিই এবারে মুক্ত হতে চেয়েছিল। ছেড়ে যাওয়ার আগে, তাই প্রশ্ন তোলে সে তার মামাকে উদ্দেশ্য করে বলে                                 ” তোমার প্রয়োজন আমাকে, কারণ বীরুর বেপরোয়া জীবনের শেষ নেই বলে, তাকে হারাতে চাইছ না বলে বেঁধে রাখতে চাইছ, ঠিক যেমন করে ভেসে যাওয়ার আগে খড়কুটোর মতন যা কিছু লোকে পাই আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। “

কিন্তু তার এখন ঘুমের সময়, মামা যেন তাকে স্বপ্নের মধ্যেও না ডাকে। তাই সে বলে  ” আমি উল্টে রেখেছি বই, নিভিয়ে দিয়েছি বাতি। এখন আর কাউকেই আমার কিছু বলার নেই। “

তাই বিশ্বাস যখন বলে ব্যবসা করতেই হবে তার সাথে যেভাবেই হোক, কারণ তার হাতে সময় নেই। তার মারণ রোগ এবার শেষ থাবা মারবে বলে যেন তৈরি হয়ে এসেছে। আর অন্যদিকে তার স্ত্রী ও পুত্রের চিন্তা তাকে দিনরাত অনুতাপে দগ্ধ করে চলেছে প্রতিনিয়তই।

তাই সে বিশেষ আক্ষেপের সুরেই বলে ওঠে  ” আমাকে কতকাল অপেক্ষা করতে হবে ব্যানার্জী? মানুষের আয়ুর তো শেষ আছে । “

সবশেষে সে ভাবে বাস্তবে সীতাকে দেখেও তার মনে হয় যে সে কল্পলোক থেকে হেঁটে আসা কোনো প্রেয়সীকে দেখছে।

যে এসে তার পান্ডু রোগা হাতখানা  তুলে নিঃসঙ্কোচে বলে ওঠে -দেখো কত রোগা হয়ে গেছি।

“পৃথিবীতে মানুষের আয়ু খুব বেশিদিন নয়, বয়ে যাচ্ছে সময়। দ্রুত কলেবরে। “                                         মনোরম তাই বিনা প্রশ্নে সীতার রোগা হাতখানা ছুঁল।

সেই মুহুর্তেই তাদের চারধার থেকে কোলকাতা মুছে যাচ্ছিল। জেগে উঠল বনভূমি। অদূরে নদীর শব্দ।

আর এভাবেই শেষ হল অভিমানের সম্পর্কে নতুন শুরুর অভিযানের প্রশ্নের তীরে ধেয়ে আসা আরও এক অপূর্ণ প্রেমের কাহিনীর। ©মেহুল শুনি🍄

অনুচ্চারিত অনুভবে

অনুভবের খুচরো হিসেবে

রেখেছি মুগ্ধতার ডায়েরিতে বছরের জমানো কুয়াশার মতো কত গল্প, কবিতা রঙীন। হয়তো আমি নামহীন কবি লিখিনি তোমায় নিয়ে তবুও তুমি আমার কাছে ভীষণ দামী এক গোপন চিলেকোঠা। স্মৃতিমদির এক পুরোনো চিঠির মতোই আমি খুঁজে চলি ছবি যা ছিল তোমার কাছে অবহেলিত মানুষের মতো।

আমি মনে করতে পারি সীমাহীন মুগ্ধতা কিভাবে বদলে গিয়েছিল একরাশ আক্ষেপে। তুমি যাওয়ার আগে বলেছিলে আসবে তুমি নিঃশব্দে শীতের শিশির বিন্দুর মতো করে। অথচ সীমাহীন অপেক্ষায় কারো কথা তোমার মনে পড়েনি। পড়ার কথা নয় কারণ নিঃশব্দে তো ফুলও ঝরে কতশত বিকেলে। গোধূলির বিদায় জুড়ে তাই একাকীত্বের কাছে তাই আমি সমর্পণ করেছি অবহেলায়।

আর আমার আবেগের সমুদ্রে অভিমানের ঢেউ ওঠে না।আর অপেক্ষায় আশাহীন চোখে জল ঝরে পড়ে না। আর চিঠিতে লিখি না তুমি আসবে কবে!

শুধু রয়েছে কেউ যার বিশ্বাসের খোলামকুচি জুড়ে বিশ্বাসঘাতকতার রক্ত লেগে আছে। যা মুছে সে আর নতুন রঙে রাঙানো কবিতার বুকে কাঁচের দেওয়াল তুলে দিয়েছে। বিসর্জন দিয়েছে যত্নে রাখা তোমার স্মৃতিভরা উপহার।।

তাই আজ শুধু তার চোখে স্বপ্ন আছে তুমি নেই মুগ্ধ হয়ে।। ©মেহুল শুনি💌📝☘️

শুরুতে মধুরতা বিষভরা পত্রিকা

প্রথম প্রথম যেকোনো সম্পর্কে অতিরিক্ত মধুরতা মানেই তাতে কোন না কোনো রহস্য লুকিয়ে থাকেই থাকে।

এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই বললেই চলে।

যদি কেউ প্রথম প্রথম খুব যত্ন ভালোবাসা দেখাতে শুরু করে বা একদম ফোন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ধরে কথা বলা, রাত বারোটায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা বা দেখা করে আড্ডা দিতে বললে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাওয়া। ছোটখাটো জিনিস তোমার বিষয়ে লক্ষ্য করা এবং  মনে রেখে যত্ন নেওয়া, সারপ্রাইজ দেওয়া বা তোমার কোনো অপূর্ণ ইচ্ছে বলেছ বলে পরে সেটা পূরণ করা ; এসব নতুন নতুন দেখলেই সাবধান হয়ে যেও। এতেই বলা যায় সে ক্ষণস্থায়ীভাবে এগুলো করছে এবং সাময়িক মোহ কেটে গেলেই আবার সে তোমাকে ভুলে গিয়ে নতুন বন্ধু, প্রেমিক, বেস্ট ফ্রেন্ড এবং সোলমেট, প্রিয় বোন, ভাই, দাদা,জুনিয়র ,সিনিয়র – এর মধ্যে কোনওটিই সে খুঁজতে পিছপা হবে না।

জীবন বড় কঠিন, ঠেকে শিখতে হয়। মানুষ চিনতে হয় আর তা চিনতে গেলে মূল্য পরিশোধ করতে হয় বইকি।

নইলে শিক্ষা যে সম্পূর্ণ হয় না।

“জীবনে কত কেউ আসে যায়, শেষপর্যন্ত কতজন থাকে সেটাই দেখার বিষয়। “-মেহুল শুনি

কারণ জীবন নদীর স্রোতের মতো বহমান।সে থামে না বাধা না পেলে, তবুও সে কারো সাথে জড়িয়ে পড়ে না হোক সে তীরে থাকা গাছপালা, পাখি, পশু বা মানুষ।

সে নিজের নিয়মে বয়ে চলে জলধারার সাথে, রেখে যায় কত মুহুর্ত – বিচ্ছেদ, ভালোবাসার, শেষ নিঃশ্বাসের, একাকীত্বের,অবসাদের, কান্নার চোখের জল কত কিছুই।

শুধু তার থমকে দাঁড়িয়ে হিসেব মেলাতে হয় না জীবনে কি হারিয়ে গেল আর পেলই বা কত কিছু।

শুধু সে মনে থাকে সমস্ত প্রকৃতির বুকে এক অব্যক্ত সাক্ষী রূপে, যে প্রমাণ দেয় না জোর গলায় কে ভালো, কে খারাপ, কে তার যাওয়ার পথে পাথর বসিয়ে গেল!

কে রেখে গেল এক পুরোনো গোধূলি আলাপ।

শুধু নিঃশব্দে বলে চলে কলকল শব্দে ইতিহাস যা কখনো কেউ জানতে চাইনি, কবি ও সাহিত্যিক ছাড়া।

এভাবে স্বভাবে অভাবে যারা লিখে চলে জীবনের গান সুখদুঃখের কথা কেবলই নিঃস্বার্থ মদিরতায় মুগ্ধ হয়ে। ©মেহুল শুনি🌿✍️

শুরুতে মধুরতা বিষভরা পত্রিকা

অনুচ্চারিত অনুচ্ছেদে বলেছি কত এলোমেলো ভাবনার বিদ্রোহের কথা

অনুচ্ছেদে আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে কত কিছুই না রোজ লিখে চলি, কিছু হয়তোবা প্রকাশ করি। আবার কিছু অকারণেই খামখেয়ালিতে মুছে ফেলি। অথচ আমরা যখন সত্যিই এলোমেলো ভাবনার বিদ্রোহের স্রোত সামলাতে না পেরে না থেমে লিখেই চলি তখন কখনও কখনও সত্যিই বিপ্লবী লেখারা ফুটে ওঠে প্রকাশ্য দিবালোকে কোনো কিছুর পরোয়া না করেই। আমরা যা সত্যিই বলতে তাই এই অনুচ্ছেদে কতটুকুই বা স্থান পায় তবুও সাময়িক ভাবে দেখতে গেলে এ পাওয়া খুব কম পাওয়া নই বইকি, পথ চলতে গিয়ে আমরা বুনোফুল দেখে মুগ্ধ হই না, হই তো তেমন করেই আমরা অনুচ্ছেদে অল্পের ভেতর দিয়ে বৃহৎ পরিসরে হলেও একটি নতুন ছবি দেখার সুযোগ পাই।

লিখতে গিয়ে কত রকমের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেগুলো কাটিয়ে উঠতে যে সময় লাগে তাতে অনুচ্ছেদের তুলনা মেলা ভার। সময়ের সাশ্রয়ের পাশাপাশি অনুভবের অপচয় বোধ হয়। আপশোষের কোনো অপ্রত্যাশিত পরিসর তৈরি হয় না। বরংচ একপ্রকার অনাবিল স্বাধীনতার মুক্তি অনুভব হয়। এভাবে অনুচ্ছেদে, অনুকবিতায় দুইলাইন বা চারলাইন রোজ আমরা বিদ্রোহের স্রোত সামলায় এক হাতে।কত অজানা পরিস্থিতি উপেক্ষা করেও আমরা রোজ নিজেকে নানাভাবে প্রকাশ করে চলেছি, এটুকুই অনেক নয় কি? ©মেহুল শুনি

অনুভবে জমেছে মরছে তাই বিক্রি করেছি কলম…

অনুভবে মরছে ধরেছে বহুদিন আগেই, তাই হিসেব করিনি আর কতদিন মনের কথা খোলা চিঠির মতো লিখে পুড়িয়ে ফেলা হয় না কেন? তবুও মাঝে মাঝে কাটাছেঁড়া হলে পরে অগোছালো শব্দগুলো গোছাতে ইচ্ছে হয়। ইচ্ছে হয় তেতো স্বাদের ছবিগুলো মুছতে। মনে হয় নিজের কাছে বহুদিন নিজের মতো করে মুখোমুখি বসে কথা বলা হয়নি। শুধু দোষারোপ আর মনের গ্লানিতে ডুবে মরমে মরে দিন কেটেছে অবশিষ্ট দিনের শেষে। খাতাগুলো হারিয়েছি ঠিকই তবে ভাবনার বিষয়গুলো ঠিকানা হারায়নি, ঠিক পৌঁছে গিয়েছে প্রকাশ্য দিবালোকে। তাই আপশোষ আর ঠিক হয় না। পুরোনো অ্যালবাম হারিয়েছি বহুদিন আগে, তাই স্মৃতি মনের মণিকোঠায় জমিয়েছি।অজুহাত, অভিযোগ এগুলো বড্ড একঘেয়ে হয়ে এসেছে আমার কাছে। কৈফিয়ত তলব করা আর হয় না শুধু অভিমান কুঁড়ি ফোটায় সময়ের ঘরে।।

গহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত কুয়াশার আড়ালে:-

সংসারেতে কত গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই। কিছু রহস্য উন্মোচিত হয় জীবনকালেই, আবার কিছু রহস্য মৃত্যুর কালগর্ভেই নিক্ষেপিত হয়। অথচ জীবনকালের ঝতু পরিবর্তন চক্রে আবর্তিত হয়ে রহস্য উন্মোচনের নেশায় কত সুখস্মৃতিকে উপেক্ষা করে কতবার যান্ত্রিক হয়ে উঠি অনুভবী মনকে একপাশে চিলেকোঠার গোপন কুঠুরির ভাঙা বাক্সে রেখে, যা এ যাবৎকাল পর্যন্ত কারো যত্নের স্পর্শে ভালোবাসার মোড়কে রাখা ছিল। এভাবে নাটকীয় বাতাবরণে কত ছোট্ট ছোট্ট মুহুর্তের চিত্র অঙ্কিত হয় নাট্যমঞ্চের পর্দার আড়ালে। কেউ সৌন্দর্যের মোহজালে  বন্দী হয়ে মনাগুণে পুড়ে সম্পূর্ণ নতুন মানুষ হয়ে ওঠে আদ্যোপান্তই, আর কেউ বদলে গিয়ে এক অনন্য ব্যক্তিত্বের আলোকে নতুন আভায় উদ্ভাসিত চন্দ্রপ্রভার মতো চারিদিক আলোকিত করে তোলে। যার সম্পূর্ণ রহস্যভেদ ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন হতে পারে মতামতের বৈচিত্র্যময় আবহে।©মেহুল শুনি 🌻

গোধূলি আলাপে

গোধূলি আলাপে আয়োজিত এক পলক শান্তির খোঁজ নিয়ে জানা গেল আট বছর ধরে সে আকাশ দেখেনি কংক্রিটের ভীড়ে,শুধু দেখেছে নীরবতা কিভাবে মিশে যায় শহরের আলো ও অন্ধকারের মায়ায় ভোলানো জগৎ এর বুকে। স্বার্থপরতা কিভাবে যেন তার মনকে ছিন্নভিন্ন করে মিশিয়ে দিচ্ছে, উন্মুক্ত প্রান্তরে মুক্তি পেতে দিচ্ছে না কিছুতেই। শিশুর মতো অবাক চোখে দুনিয়ার আজব কান্ডকারখানায় প্রশ্নের স্ফীত পাহাড়কে ফেটে পড়তে দিচ্ছে না, দিচ্ছে না সহজ করে খুশিতে উচ্ছল হয়ে ভুলে যেতে জমাটবদ্ধ মেঘাচ্ছন্ন মনের কথার হুলোড়কে।দিচ্ছে না ফুলের স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের কারণে মুগ্ধ হয়ে হারিয়ে যেতে যেখানে অচেনা অসীম দিগন্তে কেবল অনাবিল শান্তির পরশে লেগে থাকা মণিমালা মণিমাণক্য আছে, কুড়িয়ে নিতে পারলে ক্ষণজীবী ঝঞ্ঝাবিধস্ত জীবনের মানেটাই বদলে যেতে পারে, মুছে দিতে পারে ক্লান্তিকর ঘুমহীন রাতগুলোকে সাফল্যের উচ্ছাসের আলোয় ভরিয়ে দিতে। বিষন্ন বিকেলের কোলে জোনাকির আলোয় সন্ধ্যে সাজিয়ে অপেক্ষা করতে, কখন ঘুম নামবে চোখে নিশ্চিন্তের পলক ফেলে।।©মেহুল শুনি🌱✒️🫶

সেরে ওঠা…

সেরে ওঠা শুধু শরীরের নয় মনের ও জরুরি।। ©মেহুল শুনি🌱

সেরে উঠতে কেবল ওষুধ বা পথ্য বা ধন্বন্তরী নয়, প্রকৃতির স্পর্শ জরুরি। ধন্বন্তরীদের দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ঠিকই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে হবে মনের অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে গেলে। তারা কেবল ক্ষণস্থায়ী ক্ষীণ হয়ে আশার আলোকে জাগ্রত করে তোমাকে নতুন করে পথ চলতে শেখাবে । শুধু কবিতা নয়, গল্প উপন্যাসের বিশালাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এমন অভিজ্ঞতা জুড়ে বিস্তৃত এদের জীবন। শুধু প্রখর জীবনবোধের প্রতিবিম্ব যে কোনো লেখাকে বদলে দিয়ে আত্মজৈবনিক আখ্যান হয়ে ওঠে বোঝা দায়। হাওয়া বদলের দাওয়াই তাই আজীবন প্রযোয্য সেরে উঠতে গেলে।
মুছে দিয়ে আবার বারবার জন্ম হোক ফিনিক্স পাখির পুরনো সত্বার সৎকারে, রোগ তো শরীরের মধ্যে থাকে না থাকে মনে তাই তার ও সমানভাবেই যত্ন ভালোবাসা প্রয়োজন, প্রয়োজন সুস্থ থাকার নচেৎ সমস্ত ভুল ছন্দে ভেঙে যাবে সেতু যা সদ্য নির্মিত হয়েছে ভরসার ভিত এর কারণে।। ©মেহুল শুনি🌻✒️

কথা

কথা শোনার কেউ নেই
অথচ কথাশোনানোর লোক বেশি……
( সেখানে কাউকে কটূক্তি করাই হোক, তার দূর্বলতা নিয়ে ভাই মজা করছি বলে তাকে অপমান করাই হোক বা তার শরীর/ মনখারাপ অথবা অবসাদের সময়ে তাকে উল্টোপাল্টা কথা বলাই হোক ,এদের সংখ্যা সবসময় বেশি- সেটা যে কেউ হতে পারে তোমার ছোটবেলার বন্ধু বা পরিবারের আপনজন অথবা আত্মীয়স্বজন / পাড়াপ্রতিবেশী বা তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড – স্কুলজীবনের ,বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজবেলার বন্ধু হতে পারে ) দুঃখের বিষয় এদের আমরা নিজেদের চেয়েও ভালোবাসি তাই খারাপ লাগে, আপন ভাবলে এরা এমন দূর্ব্যবহার করে যেন আমরা মানুষ নয় বরং কোনো বস্তু যার সাথে যা ইচ্ছে তাই করা যায়। যেন তাদের অনুভূতি নেই, তাদের খারাপ লাগাটা না কি মনগড়া অসুখ, কাঁদলে ন্যাকামি, ব্যর্থ হলেই নাকি মানুষ এসব করে- কাঁদে মনখারাপ করে, ভালো লাগছে না এসব বলে, অবসাদগ্রস্ত বোঝাতে চায়। অদ্ভুত দুনিয়ার নিয়ম 🙂 © মেহুল শুনি

এক ধ্বংসাবশেষের বুকে স্বপ্নের কথা বলি চলো

বিখ্যাত বিজনেসম্যান উল্লাসবাবু হচ্ছেন কোলকাতা শহরের একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্মানিত ব্যক্তি, যার স্ত্রী একজন বিখ্যাত শিল্পী যার নাম বহিশিখা সেন। তাদের দুই মেয়ে একজন- এর নাম নীহারিকা ও অপরজনের নাম কুহেলিকা; দুজনেই মেধাবী ও বলতে গেলে। ১২বছর- এর দাম্পত্য জীবন ঠিক চলার পর হঠাৎই একদিন অশান্তি শুরু হলো, তারপর গোটা মাস গড়িয়ে বছরের দোরগোড়ায় উপস্থিত হল, যার ফলস্বরূপ উল্লাস সেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ছেড়ে অন্যত্র একটি বাড়িতে বাস করতে লাগলেন আর অন্যদিকে “বহ্নিশিখা” অবসাদের কারণে ধীরে ধীরে বাপের সর্বস্য ডুবিয়ে দিতে লাগলেন এবং তার দুই মেয়ে যথারীতি পড়াশোনায় নিজেদের ডুবিয়ে দিয়ে সব তিক্ত স্মৃতি ভুলতে চেষ্টা করলো। এভাবেই সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল, নিহারিকা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ভালো রেজাল্ট করে তার মায়ের মুখে হাসি এনে দিলো এবং অন্যদিকে কুহেলিকা পড়াশোনার পাশাপাশি গানে ও …. আর্ট এ বিশেষ স্থান ঘর ট্রফি, সম্মানপত্র ও উপহারে ভরিয়ে তুললো। এই ভাবে চলতে চলতে নিহারিকা উচ্চ মাধ্যমিক এ সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলো ও কুহেলিকা ক্লাস সেভেন এ প্রথম হয়ে ক্লাস এইট এ ভর্তি হলো আর বহ্নিশিখা artist of the city of Kolkata অ্যাওয়ার্ড পেল। তবুও তাদের এই ছোট্ট জীবনে অভাব ছিল, তা মনের শান্তির, উল্লাস বাবুর চলে যাওয়া এবং তাদের নিজস্ব ব্যর্থতার হিসেবের গড়মিলে, সেটা কারোর কাছে প্রকাশ না কলেও মনে মনে অনুভব করতো যার ফল স্বরূপ তাদের লড়াইটা দিন দিন বাইরে থেকে হাসি খুশি ও ভেতর থেকে অখুশি হবার চিত্রটা দেখা দিচ্ছিল।
জীবন চলতে থাকলো ক্রমান্বয়ে, হঠাৎই একদিন বহ্নিশিখার সাথে দেখা হয়ে গেলো তার স্বামী উল্লাস বাবুর , তিনি চৌরাস্তার মোড়ে স্বতস্ফূর্তভাবে উল্লাসে পরকীয়ায় মেতেছেন আবারও এক নারীর সাথে, ভুলে গিয়ে কথা দিয়ে পথ চলার বছরের হিসেব;একসময় ভালোবাসার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকার দিনগুলো কাটিয়েছেন বহ্নিশিখার সাথে।
খবর নিয়ে জানতে পারে বহ্নিশিখা, যে বিয়ে নয় শুধুমাত্র এক পরকীয়ায় ব্যতিব্যস্ত তিনি।
তাদের আইনি বিচ্ছেদ না হওয়ায় বহ্নিশিখার বিবাহের সাতটি বচনের মিথ্যে পর্দার অন্তরালে এই পরিহাসে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে দেয় তার জীবনের শেষ সারসত্যের মৃত্যুতে।
তীব্র কষ্টের প্রবাহে এক পলকেই মিথ্যে হয়ে যায় সত্যিকারের ভালোবাসা, একজনের প্রতি নিষ্ঠার, সমর্পণের দাম মূল্যহীন হয়ে যাবে ভাবেননি।
মুখ কালো করে ফেরে সে। এসেই দেখে যে চারপাশের পরিবেশ কেমন জানি বদলে গেছে, তারা যেন অন্যদিনের চেয়ে আজ হঠাৎই এড়িয়ে চলছে, কেমন যেন খাপছাড়া মনোভাব পোষণ করছে। হয়তোবা তার অবসাদের কারণে তার কাছের মানুষ বলতে দুজন যারা তার আত্মজা, তারা আজ জেনেছে তাদের বাবা পরনারীতে আসক্ত, মা ব্যর্থ বিবাহের সম্পর্কের দায়ভার নিতে গিয়ে সর্বস্বত্ব খুইয়ে একাকীত্ব অবসাদে নূন্যতম দায়িত্ব পালন করতেও অসমর্থ হচ্ছে। কারণ তারা তো নির্দোষ, তাহলে তাদের দুজনের করা ভুলের দায়ে তাদের জীবনে আসা সুনামিতে ভেসে যেতে চাইবে কেন ❓
কেন চাইবে নূন্যতম শান্তি খুইয়ে অশান্তি, একাকীত্ব অবসাদে ভরা জীবন বেছে নিতে। কেন চাইবে তাদের কথা লোকে আলোচনা করবে গোল হয়ে বসে, কথার তীর ছুড়বে অকারণেই তাদের দিকে চরম উল্লাসে।
এভাবেই চলতে চলতে দেখা গেল যে কুহেলিকা ও নীহারিকা দুজনেই তার মায়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো এক জায়গায় থেকেও, খাওয়ার সময় বা আনুষঙ্গিক কাজে তার সাথে প্রয়োজন এর অতিরিক্ত কথা বলা বন্ধ করে দিলো, সময় কাটানোর কথাও দূর অস্ত।
কোণঠাসা হয়ে পড়লে মানুষ খড়কুটো আকড়েও বাঁচতে চায়, ভালোবাসার মানুষ না পেলেও চলে, তবে সন্তানের ঘৃণা সইবার মতো শক্তি থাকে না মা বা বাবার কারোরই।মানুষ লড়াই করে চলে জীবনের প্রত্যেক মুহুর্তে বেঁচে থাকার জন্য, ভালোবাসার জন্য, স্বপ্নপূরণের জন্য কিন্তু তবুও তার একটি কারণ থাকা দরকার। নচেৎ সমস্ত কিছু হারিয়ে সে বাঁচতে পারে না, নতুনের গল্প লিখতে পারে না। আর চাইতেও পারে না।
তাই শেষমেশ আত্মহত্যার মতো সহজ সমাধান কেই তার সমস্ত কিছু শেষ এর রাস্তা মনে হলো। তাই একদিন বাড়িতে কেউ না থাকায় সে ফ্যানের সাথে শাড়ি জড়িয়ে আত্মহত্যা করে শেষ করলো তার সমস্ত লড়াইয়ের যবনিকাপাতে। এরপর উল্লাস সেন খবর পেয়েই দৌড়ে তার সঙ্গিনীকে ছেড়ে মেয়েদের দেখভালের উদ্দেশ্যে সব ছেড়ে আবার পুরোনো ঠিকানায় ফিরে এলেন।
কিন্তু তার মেয়েরাও তাকে মেনে তো নিলই না বরং তার মায়ের অকাল মৃত্যুর জন্য তাও আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার জন্য বাধ্য হওয়ার জন্য তাকেই দায়ী করে দূরত্ব বজায় রেখেই নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকতে শুরু করল।
এভাবেই চারবছর চলার পর কুহেলিকা মাধ্যমিক দিয়ে আর্ট নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক এ ভর্তি হলো এবং নীহারিকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পা দিলো।
এরপর হঠাৎই উল্লাস বাবু অফিসেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি হলেন। তখন তার মেয়েরা হঠাৎই তার গুরুত্ব বুঝতে পারল, বুঝতে পারল তাদের বাবা সময়ের চক্রে ফেঁসে ভুল পথে পা বাড়ালেও আত্মগ্লানি ও কাজে ব্যস্ততার সুযোগে নিজের প্রতি চরম অবহেলা করে ফেলেছিলেন, বাঁচার সমস্ত ইচ্ছে ও কারণ খুঁজে না পেয়ে;কারণ তার সঙ্গিনীকে ছেড়ে যে চলে এসেছিলেন আর ফিরে তো যাননি বরং অন্য কারো প্রতি আর আকৃষ্ট হননি।

Design a site like this with WordPress.com
Get started