বিখ্যাত বিজনেসম্যান উল্লাসবাবু হচ্ছেন কোলকাতা শহরের একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্মানিত ব্যক্তি, যার স্ত্রী একজন বিখ্যাত শিল্পী যার নাম বহিশিখা সেন। তাদের দুই মেয়ে একজন- এর নাম নীহারিকা ও অপরজনের নাম কুহেলিকা; দুজনেই মেধাবী ও বলতে গেলে। ১২বছর- এর দাম্পত্য জীবন ঠিক চলার পর হঠাৎই একদিন অশান্তি শুরু হলো, তারপর গোটা মাস গড়িয়ে বছরের দোরগোড়ায় উপস্থিত হল, যার ফলস্বরূপ উল্লাস সেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ছেড়ে অন্যত্র একটি বাড়িতে বাস করতে লাগলেন আর অন্যদিকে “বহ্নিশিখা” অবসাদের কারণে ধীরে ধীরে বাপের সর্বস্য ডুবিয়ে দিতে লাগলেন এবং তার দুই মেয়ে যথারীতি পড়াশোনায় নিজেদের ডুবিয়ে দিয়ে সব তিক্ত স্মৃতি ভুলতে চেষ্টা করলো। এভাবেই সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল, নিহারিকা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ভালো রেজাল্ট করে তার মায়ের মুখে হাসি এনে দিলো এবং অন্যদিকে কুহেলিকা পড়াশোনার পাশাপাশি গানে ও …. আর্ট এ বিশেষ স্থান ঘর ট্রফি, সম্মানপত্র ও উপহারে ভরিয়ে তুললো। এই ভাবে চলতে চলতে নিহারিকা উচ্চ মাধ্যমিক এ সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলো ও কুহেলিকা ক্লাস সেভেন এ প্রথম হয়ে ক্লাস এইট এ ভর্তি হলো আর বহ্নিশিখা artist of the city of Kolkata অ্যাওয়ার্ড পেল। তবুও তাদের এই ছোট্ট জীবনে অভাব ছিল, তা মনের শান্তির, উল্লাস বাবুর চলে যাওয়া এবং তাদের নিজস্ব ব্যর্থতার হিসেবের গড়মিলে, সেটা কারোর কাছে প্রকাশ না কলেও মনে মনে অনুভব করতো যার ফল স্বরূপ তাদের লড়াইটা দিন দিন বাইরে থেকে হাসি খুশি ও ভেতর থেকে অখুশি হবার চিত্রটা দেখা দিচ্ছিল।
জীবন চলতে থাকলো ক্রমান্বয়ে, হঠাৎই একদিন বহ্নিশিখার সাথে দেখা হয়ে গেলো তার স্বামী উল্লাস বাবুর , তিনি চৌরাস্তার মোড়ে স্বতস্ফূর্তভাবে উল্লাসে পরকীয়ায় মেতেছেন আবারও এক নারীর সাথে, ভুলে গিয়ে কথা দিয়ে পথ চলার বছরের হিসেব;একসময় ভালোবাসার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে থাকার দিনগুলো কাটিয়েছেন বহ্নিশিখার সাথে।
খবর নিয়ে জানতে পারে বহ্নিশিখা, যে বিয়ে নয় শুধুমাত্র এক পরকীয়ায় ব্যতিব্যস্ত তিনি।
তাদের আইনি বিচ্ছেদ না হওয়ায় বহ্নিশিখার বিবাহের সাতটি বচনের মিথ্যে পর্দার অন্তরালে এই পরিহাসে অন্ধকারে নিক্ষেপ করে দেয় তার জীবনের শেষ সারসত্যের মৃত্যুতে।
তীব্র কষ্টের প্রবাহে এক পলকেই মিথ্যে হয়ে যায় সত্যিকারের ভালোবাসা, একজনের প্রতি নিষ্ঠার, সমর্পণের দাম মূল্যহীন হয়ে যাবে ভাবেননি।
মুখ কালো করে ফেরে সে। এসেই দেখে যে চারপাশের পরিবেশ কেমন জানি বদলে গেছে, তারা যেন অন্যদিনের চেয়ে আজ হঠাৎই এড়িয়ে চলছে, কেমন যেন খাপছাড়া মনোভাব পোষণ করছে। হয়তোবা তার অবসাদের কারণে তার কাছের মানুষ বলতে দুজন যারা তার আত্মজা, তারা আজ জেনেছে তাদের বাবা পরনারীতে আসক্ত, মা ব্যর্থ বিবাহের সম্পর্কের দায়ভার নিতে গিয়ে সর্বস্বত্ব খুইয়ে একাকীত্ব অবসাদে নূন্যতম দায়িত্ব পালন করতেও অসমর্থ হচ্ছে। কারণ তারা তো নির্দোষ, তাহলে তাদের দুজনের করা ভুলের দায়ে তাদের জীবনে আসা সুনামিতে ভেসে যেতে চাইবে কেন ❓
কেন চাইবে নূন্যতম শান্তি খুইয়ে অশান্তি, একাকীত্ব অবসাদে ভরা জীবন বেছে নিতে। কেন চাইবে তাদের কথা লোকে আলোচনা করবে গোল হয়ে বসে, কথার তীর ছুড়বে অকারণেই তাদের দিকে চরম উল্লাসে।
এভাবেই চলতে চলতে দেখা গেল যে কুহেলিকা ও নীহারিকা দুজনেই তার মায়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো এক জায়গায় থেকেও, খাওয়ার সময় বা আনুষঙ্গিক কাজে তার সাথে প্রয়োজন এর অতিরিক্ত কথা বলা বন্ধ করে দিলো, সময় কাটানোর কথাও দূর অস্ত।
কোণঠাসা হয়ে পড়লে মানুষ খড়কুটো আকড়েও বাঁচতে চায়, ভালোবাসার মানুষ না পেলেও চলে, তবে সন্তানের ঘৃণা সইবার মতো শক্তি থাকে না মা বা বাবার কারোরই।মানুষ লড়াই করে চলে জীবনের প্রত্যেক মুহুর্তে বেঁচে থাকার জন্য, ভালোবাসার জন্য, স্বপ্নপূরণের জন্য কিন্তু তবুও তার একটি কারণ থাকা দরকার। নচেৎ সমস্ত কিছু হারিয়ে সে বাঁচতে পারে না, নতুনের গল্প লিখতে পারে না। আর চাইতেও পারে না।
তাই শেষমেশ আত্মহত্যার মতো সহজ সমাধান কেই তার সমস্ত কিছু শেষ এর রাস্তা মনে হলো। তাই একদিন বাড়িতে কেউ না থাকায় সে ফ্যানের সাথে শাড়ি জড়িয়ে আত্মহত্যা করে শেষ করলো তার সমস্ত লড়াইয়ের যবনিকাপাতে। এরপর উল্লাস সেন খবর পেয়েই দৌড়ে তার সঙ্গিনীকে ছেড়ে মেয়েদের দেখভালের উদ্দেশ্যে সব ছেড়ে আবার পুরোনো ঠিকানায় ফিরে এলেন।
কিন্তু তার মেয়েরাও তাকে মেনে তো নিলই না বরং তার মায়ের অকাল মৃত্যুর জন্য তাও আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার জন্য বাধ্য হওয়ার জন্য তাকেই দায়ী করে দূরত্ব বজায় রেখেই নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকতে শুরু করল।
এভাবেই চারবছর চলার পর কুহেলিকা মাধ্যমিক দিয়ে আর্ট নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক এ ভর্তি হলো এবং নীহারিকা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পা দিলো।
এরপর হঠাৎই উল্লাস বাবু অফিসেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি হলেন। তখন তার মেয়েরা হঠাৎই তার গুরুত্ব বুঝতে পারল, বুঝতে পারল তাদের বাবা সময়ের চক্রে ফেঁসে ভুল পথে পা বাড়ালেও আত্মগ্লানি ও কাজে ব্যস্ততার সুযোগে নিজের প্রতি চরম অবহেলা করে ফেলেছিলেন, বাঁচার সমস্ত ইচ্ছে ও কারণ খুঁজে না পেয়ে;কারণ তার সঙ্গিনীকে ছেড়ে যে চলে এসেছিলেন আর ফিরে তো যাননি বরং অন্য কারো প্রতি আর আকৃষ্ট হননি।
ফিরে আসে অব্যক্ত ব্যথারা নিঃশব্দে

ফিরে আসে জমে থাকা বরফের পাহাড় চিরে অব্যক্ত ব্যথাদের স্রোত।
এলোমেলো কিছু ভাবনা
শূন্যতা না অন্য কিছু ?
না যা আছে তা ঠিক কি আমি নিজেই জানিনা ? সবকিছুই কেমন দায়সারা, ভালোলাগা নিস্পৃহতায় বর্তমান । নিজেকে খোঁজার ভীড়ে প্রশ্ন বিদ্যমান , আর কুয়াশার আবরণে ধোঁয়াশার মতো কুলকুণ্ডুলিনী সারাক্ষণ । কি যেন একটা নেই, কেন নেই,কীসের জন্য নেই তাও ঠিক জানা নেই ; পুরোটাই রহস্যে মোড়কে ঢাকা এক প্রশ্নচিহ্নের বিশাল ইবারত । তার পরতে পরতে রয়েছে আগাছার মতো কিছু দৃশ্যমান অনুভূতি , যার আড়ালে লুকিয়ে আছে” আমার আমি”। তাই নিজেকে খোঁজার দীর্ঘ পথচলা ভীষণ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই একসময় শেষ হবে। কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না কোনোভাবেই। যত বাধাবিপত্তি জয় করে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় ঘটবে তত দ্রুত আমার আমি কে খুঁজে পাবো। সেইদিনই সমস্ত সংগ্রাম সার্থক হবে, জয় নিশ্চিত হবে এই জেনো।।
©মেহুল শুনি
🌼

মনের কপাট বন্ধ করতে পারলে তো কষ্টের কারণটাই সমূলে উপড়ে ফেলা যেতো তাই না… যা অসম্ভব।
যদিওবা সম্ভব হয় তবে অনুভূতিহীন অবয়ব হয়ে ওঠাটা খুব জরুরি… খুব দরকার, নইলে সব প্রস্তুতি বিফলে গিয়ে সব আবার সেই ঘেঁটে ঘ হয়েই রয়ে যাবে, কিস্যু বদলাবে না কিস্যু না… গল্পটা একরকম একঘেয়ে থেকে যাবে আজীবন এইভাবেই।।
©মেহুল শুনি♠️♠️
অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে লজ্জা করে না,
আর যখন অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করে তখন প্রশ্ন করো কেন?
পৈশাচিক উল্লাস এ মেতে ওঠার জন্য কি?
ধর্ম,দীক্ষাও ঈশ্বরের উপাসক বলে দাবি করো,আবার মন্যুষত্ব বেঁচে দাও আত্মসুখে জর্জরিত হয়ে।তোমরা তো মানুষরূপী জানোয়ার।
তোমরা নিজের ছাড়া আর কিছু কি করে দেখবে?
এটা আশা করাটাই হাস্যকর। মনে রেখো এর মূল্য চোকাতে হবেই একদিন…
যেখানে ধরে নেওয়া হয় মেয়েরা পড়ে পড়ে মার খাবে,
সেখানে প্রতিবাদ কে সুনজরে দেখা হবে এতো অস্বাভাবিক কিছু নয়।মেয়েদের মানুষ না ভেবে দেবী, মায়ের জাত বলে দমিয়ে রাখবে,কেউ ভালো থাকার জন্য সঙ্গী খুঁজলে অন্যায়,নিজের ইচ্ছেমতো জীবন কাটালে স্বেচ্ছাচারী,চরিত্রহীন,আরো কতো অশ্লীল নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হবে।কেউ বিয়ে না করে লিভ ইন থাকলে বলা হবে অবৈধ সম্পর্কে আছে,কেউ একা থাকতে চাইলে তার নিশ্চয়ই খুঁত আছে ধরে নিতে হবে। মেয়েরা বাঁচার চেষ্টায় কতবার মরবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নাগপাশে বদ্ধ হয়ে, আর কেন? তাদের কি ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
ধর্ম এর বুলি না ঝেড়ে আগে মানুষ হতে শেখো,
মেয়েদের ত্যাগ তিতীক্ষায় মানিয়ে নিয়ে জীবন কাটাতে না শিখিয়ে আত্মসম্মান নিয়ে আত্মরক্ষার কৌশল শিখে ভালো ভাবে নির্ভয়ে জীবন কাটাতে শেখাও। তারা মানুষ, নিজের ইচ্ছেমতো বাঁচার অধিকার আছে, আলাদা করে স্বীকৃতির দরকার নেই বোঝাও। মধ্যযুগীয় মানসিকতা কে মুছে দিয়ে মানুষ হতে শেখো তার জন্য প্রথাগত শিক্ষা বা ডিগ্রী লাগে না একটা সুন্দর মন লাগে আর উদারতার বটগাছ হতে লাগে, সংকীর্ণতার আগল ছিঁড়ে বেরিয়ে।
মানুষ হতে শেখো, ধর্ম এর উপাসক নয়, রাজনীতির নেতা নয়।
ধন্যবাদ🙏💕
©মেহুল শুনি
কুহকিনী কি করে জানা নেই, কবিরা বোধহয় দুঃখেও কবিতা লেখে
হারিয়ে ফেলার শুন্যতার মাপকাঠি বোধহয় নয়, যদি থাকত সেও ছিঁড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জানান দিতো ব্যথার ভার, যা হয়তো সেও নিতে পারেনি বলে ক্লান্ত হয়ে ছিঁড়ে পড়ে গেছে। সব যন্ত্রণার এক হয়ে গিয়ে এমন ভারাক্রান্ত হৃদয় ভারি হয়ে ওঠে, যেখানে গুমোট এর চাপেও বৃষ্টির দেখা মেলে না, কেবল মেঘলা আকাশের মন ভার দেখা যায়। যেখানে চিঠি ঠিকানা হারিয়ে ফেলায় ডাকবাক্স এর এক কোণে পড়ে থাকে, আসলে ভালোবাসা এমনই হয়, যার স্মৃতি, পিছুটান, মুহুর্ত চাইলেও ভোলা যায় না; শুধু ভুলতেও চেয়েও বেশি করে পড়ে মনে। কবিরা হয়তো দুঃখেও কবিতা লেখে, কুহকিনী কি করে আমার জানা নেই, পাড়ার শেষে যে বাড়িটায় একসময় হাসি-ঠাট্টা-কান্নার মজলিস বসত, আজ সেখানে ভাঙাচোরা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। চায়ের দোকানে চেনা দাদুর ফোকলা হাসি আর দেখা যায় না, ঠাকুমার আদুরে ডাক জানালা দিয়ে শোনোআ যায়নি, শুধু একরাশ সময় বেঁচে গেছে। যা দিয়ে একরাশ একাকীত্ব কেনা হবে বলে সময় বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, আজ যা গিলে খেতে আসে ভয়ানক শুন্যতায়।নেওয়ার ক্ষমতা রোজ একটু একটু ফুরিয়ে আসছে,অমলতাস এ কবেই ঝরে গেছে দুঃখের বাতাসের পলকা ছোঁয়ায়। গোলাপ ও আজ ফুঁটতে ভুলে গেছে অভিমানের তীব্রতায়। সব কেমন মনমরা ঝরাপাতার মতো ঝরে গিয়েও বেঁচে আছে শুধু বাঁচতে হয় বলে স্রেফ আর কিছু না। ছিঁড়ে আনা প্রজাপতির দেহাংশের টুকরো কবরে শায়িত ফুলের সাথে গল্প জুড়েছে, যার নুপূরের ধ্বনির সাথে যার উড়ে যাওয়ার সম্পর্ক ছিল অটুট, মৃত্যুর পরেও যা বজায় আছে। মানুষের মতো কথা দিয়ে ও না রাখার বেইমানি সে করেনি।শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতে মরিচা পড়েছে ঠিক কিন্তু আঘাত আসা কমেনি একবারও ভুল করেও।

রঙীন তবুও রং-হীন
বাইরে থেকে সবার জীবন রঙীন অপূর্ব মনে হলেও আদতে গল্পটা রং-হীন ধূসর বাস্তবতার নিরিখে কেমন খাপছাড়া ধরনের। যা শুনলে বা অনুভব করলেও তা বোঝা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব।।
একা হয়ে যাওয়ার সময়
আস্ত মনখারাপ গিলে ফেলাটা সহজ যদিও নয় আমাদের কাছে তবুও আমরা পারি একসময়,
কেউ শিখিয়ে দেয় না, বলেও দেয় না;
কাউকে জানাই না আর মনখারাপ এর পারদ যখন উঁচু হয়ে অবসাদের কোলে ঢলে পড়লেও,
কারণ আমরা জানি আপেক্ষিক গুরুত্ব আর সারাজীবন ধরে রাখার মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ রয়ে যায় বইকি।
যারা পারে তারা কখনো মুখ ফুটে বলে না বরং বলে আমি যতদিন আছি ততদিন পর্যন্ত এটুকু খেয়াল রাখতে পারি তোর মনের ক্যান্সারের,
তবে সারাজীবন ধরে পারব কি না জানি না।
অথচ যাদের থাকার কথা ছিল তারা কথা দিয়েও থাকে না,
তবুও অভিমান হলেও আর তারা জানতেও পারে না।
আসলে খরস্রোতা নদীর গল্প তো সবাই জানে,
কিন্তু সেই নদী যখন শান্ত স্নিগ্ধতার পরশ গায়ে একলা চুপি চুপি বয়ে যেতে থাকে হাসিমুখে তখন তার শান্ত হওয়ার কারণ কেউ জানতে চায় না,
এভাবেই বিস্ফোরক অনুভূতি জমা হতে থাকে রাতের আলোছায়ার আড়ালে।।
©মেহুল শুনি
যদি কখনও
যদি আমি কখনো বলে উঠি এখানে যারা আবেগের বশে কবিতা লিখবে,
তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে,
যদি বলি যুদ্ধের ময়দানে রক্তের বন্যাই আমার প্রিয়,
ভালোবাসার ঘাসে বসে নিশ্চিন্তের বাক্যালাপের থেকে।
যদি বলি বইয়ের শব্দগুলোর প্রতি আমার একরাশ ঘেন্না আছে আমার জমিয়ে রাখা,
তুমি পাগল ভাববে আমাকে,
তাহলে নিঃশব্দে চুপিসারে চলে যেও।
আমায় ঘুণাক্ষরেও জানতে দিও না,
যদি আমি ভুল করে জানতে পারি তবে তীব্র ঘৃণার আগুন চোখ ঠিকরে তোমায় শাস্তিরূপে গিলে খেতে আসবে।।
আসলে আমাদের ভেতরের মানুষটাকে আমরা সকলের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে আগলে রাখি,
কিন্তু সেটা যদি দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হয়,
তাহলে তাহলে অনুভবের লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকে না।
ভালো থাকার সব যড়যন্ত্রে লোকসমাগম না থাকলে যে ভালো থাকাটা আন্তরিকতার ছোঁয়াটুকুও না পেয়ে হিংস্র পশুদের মতো নখদাঁত বের করে খুবলে খেয়ে নিতে চায় জিঘাংসার কারণে।
-©মেহুল শুনি🌱✒️
পুজোর স্মৃতির ঝাঁপি
ছোটোবেলায় পুজো নিয়ে একটা আলাদাই উন্মাদনা ছিল, একটা যেন অন্য জগতের বাসিন্দা হয়ে যেতাম প্রত্যেকেই। পুজোর জামা, জুতো থেকে শুরু করে ঠাকুর দেখা ও শিউলি ফুল কুড়িয়ে আনার জন্য অঘোষিত উৎসবের আয়োজনে সবাই নির্ধিধ্বায় সম্মিলিত হবার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। মহালয়ার ভোরে চারটেয় ঘুম থেকে উঠে চাদর গায়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় রেডিওতে চণ্ডীপাঠ শোনা এবং বাঙালির সম্মিলিত ভোরবেলায় ওঠার যে আমেজ তার স্মৃতি যেন আজও এবং পরেও আমাদের মনে জ্বলজ্বল করে উঠবে।
