ফিরে আসে অব্যক্ত ব্যথারা নিঃশব্দে

ফিরে আসে জমে থাকা বরফের পাহাড় চিরে অব্যক্ত ব্যথাদের স্রোত।

এলোমেলো কিছু ভাবনা

শূন্যতা না অন্য কিছু ?

না যা আছে তা ঠিক কি আমি নিজেই জানিনা ? সবকিছুই কেমন দায়সারা, ভালোলাগা নিস্পৃহতায় বর্তমান । নিজেকে খোঁজার ভীড়ে প্রশ্ন বিদ্যমান , আর কুয়াশার আবরণে ধোঁয়াশার মতো কুলকুণ্ডুলিনী সারাক্ষণ । কি যেন একটা নেই, কেন নেই,কীসের জন্য নেই তাও ঠিক জানা নেই ; পুরোটাই রহস্যে মোড়কে ঢাকা এক প্রশ্নচিহ্নের বিশাল ইবারত । তার পরতে পরতে রয়েছে আগাছার মতো কিছু দৃশ্যমান অনুভূতি , যার আড়ালে লুকিয়ে আছে” আমার আমি”। তাই নিজেকে খোঁজার দীর্ঘ পথচলা ভীষণ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই একসময় শেষ হবে। কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না কোনোভাবেই। যত বাধাবিপত্তি জয় করে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় ঘটবে তত দ্রুত আমার আমি কে খুঁজে পাবো। সেইদিনই সমস্ত সংগ্রাম সার্থক হবে, জয় নিশ্চিত হবে এই জেনো।।

©মেহুল শুনি

🌼

মনের কপাট বন্ধ করতে পারলে তো কষ্টের কারণটাই সমূলে উপড়ে ফেলা যেতো তাই না… যা অসম্ভব।

যদিওবা সম্ভব হয় তবে অনুভূতিহীন অবয়ব হয়ে ওঠাটা খুব জরুরি… খুব দরকার, নইলে সব প্রস্তুতি বিফলে গিয়ে সব আবার সেই ঘেঁটে ঘ হয়েই রয়ে যাবে, কিস্যু বদলাবে না কিস্যু না… গল্পটা একরকম একঘেয়ে থেকে যাবে আজীবন এইভাবেই।।

©মেহুল শুনি♠️♠️

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতে লজ্জা করে না,
আর যখন অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করে তখন প্রশ্ন করো কেন?
পৈশাচিক উল্লাস এ মেতে ওঠার জন্য কি?
ধর্ম,দীক্ষাও ঈশ্বরের উপাসক বলে দাবি করো,আবার মন্যুষত্ব বেঁচে দাও আত্মসুখে জর্জরিত হয়ে।তোমরা তো মানুষরূপী জানোয়ার।
তোমরা নিজের ছাড়া আর কিছু কি করে দেখবে?
এটা আশা করাটাই হাস্যকর। মনে রেখো এর মূল্য চোকাতে হবেই একদিন…
যেখানে ধরে নেওয়া হয় মেয়েরা পড়ে পড়ে মার খাবে,
সেখানে প্রতিবাদ কে সুনজরে দেখা হবে এতো অস্বাভাবিক কিছু নয়।মেয়েদের মানুষ না ভেবে দেবী, মায়ের জাত বলে দমিয়ে রাখবে,কেউ ভালো থাকার জন্য সঙ্গী খুঁজলে অন্যায়,নিজের ইচ্ছেমতো জীবন কাটালে স্বেচ্ছাচারী,চরিত্রহীন,আরো কতো অশ্লীল নোংরা ভাষায় আক্রমণ করা হবে।কেউ বিয়ে না করে লিভ ইন থাকলে বলা হবে অবৈধ সম্পর্কে আছে,কেউ একা থাকতে চাইলে তার নিশ্চয়ই খুঁত আছে ধরে নিতে হবে। মেয়েরা বাঁচার চেষ্টায় কতবার মরবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নাগপাশে বদ্ধ হয়ে, আর কেন? তাদের কি ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।

ধর্ম এর বুলি না ঝেড়ে আগে মানুষ হতে শেখো,
মেয়েদের ত্যাগ তিতীক্ষায় মানিয়ে নিয়ে জীবন কাটাতে না শিখিয়ে আত্মসম্মান নিয়ে আত্মরক্ষার কৌশল শিখে ভালো ভাবে নির্ভয়ে জীবন কাটাতে শেখাও। তারা মানুষ, নিজের ইচ্ছেমতো বাঁচার অধিকার আছে, আলাদা করে স্বীকৃতির দরকার নেই বোঝাও। মধ্যযুগীয় মানসিকতা কে মুছে দিয়ে মানুষ হতে শেখো তার জন্য প্রথাগত শিক্ষা বা ডিগ্রী লাগে না একটা সুন্দর মন লাগে আর উদারতার বটগাছ হতে লাগে, সংকীর্ণতার আগল ছিঁড়ে বেরিয়ে।
মানুষ হতে শেখো, ধর্ম এর উপাসক নয়, রাজনীতির নেতা নয়।
ধন্যবাদ🙏💕

©মেহুল শুনি

কুহকিনী কি করে জানা নেই, কবিরা বোধহয় দুঃখেও কবিতা লেখে

হারিয়ে ফেলার শুন্যতার মাপকাঠি বোধহয় নয়, যদি থাকত সেও ছিঁড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জানান দিতো ব্যথার ভার, যা হয়তো সেও নিতে পারেনি বলে ক্লান্ত হয়ে ছিঁড়ে পড়ে গেছে। সব যন্ত্রণার এক হয়ে গিয়ে এমন ভারাক্রান্ত হৃদয় ভারি হয়ে ওঠে, যেখানে গুমোট এর চাপেও বৃষ্টির দেখা মেলে না, কেবল মেঘলা আকাশের মন ভার দেখা যায়। যেখানে চিঠি ঠিকানা হারিয়ে ফেলায় ডাকবাক্স এর এক কোণে পড়ে থাকে, আসলে ভালোবাসা এমনই হয়, যার স্মৃতি, পিছুটান, মুহুর্ত চাইলেও ভোলা যায় না; শুধু ভুলতেও চেয়েও বেশি করে পড়ে মনে। কবিরা হয়তো দুঃখেও কবিতা লেখে, কুহকিনী কি করে আমার জানা নেই, পাড়ার শেষে যে বাড়িটায় একসময় হাসি-ঠাট্টা-কান্নার মজলিস বসত, আজ সেখানে ভাঙাচোরা বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।          চায়ের দোকানে চেনা দাদুর ফোকলা হাসি আর দেখা যায় না, ঠাকুমার আদুরে ডাক জানালা দিয়ে শোনোআ যায়নি, শুধু একরাশ সময় বেঁচে গেছে। যা দিয়ে একরাশ একাকীত্ব কেনা হবে বলে সময় বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, আজ যা গিলে খেতে আসে ভয়ানক শুন্যতায়।নেওয়ার ক্ষমতা রোজ একটু একটু ফুরিয়ে আসছে,অমলতাস এ কবেই ঝরে গেছে দুঃখের বাতাসের পলকা ছোঁয়ায়। গোলাপ ও আজ ফুঁটতে ভুলে গেছে অভিমানের তীব্রতায়। সব কেমন মনমরা ঝরাপাতার মতো ঝরে গিয়েও বেঁচে আছে শুধু বাঁচতে হয় বলে স্রেফ আর কিছু না। ছিঁড়ে আনা প্রজাপতির দেহাংশের টুকরো  কবরে শায়িত ফুলের সাথে গল্প জুড়েছে, যার নুপূরের ধ্বনির সাথে যার উড়ে যাওয়ার সম্পর্ক ছিল অটুট, মৃত্যুর পরেও যা বজায় আছে। মানুষের মতো কথা  দিয়ে ও না রাখার বেইমানি সে করেনি।শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতে মরিচা পড়েছে ঠিক কিন্তু আঘাত আসা কমেনি একবারও ভুল করেও।

রঙীন তবুও রং-হীন

বাইরে থেকে সবার জীবন রঙীন অপূর্ব মনে হলেও আদতে গল্পটা রং-হীন ধূসর বাস্তবতার নিরিখে কেমন খাপছাড়া ধরনের। যা শুনলে বা অনুভব করলেও তা বোঝা সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব।।

একা হয়ে যাওয়ার সময়

আস্ত মনখারাপ গিলে ফেলাটা সহজ যদিও নয় আমাদের কাছে তবুও আমরা পারি একসময়,
কেউ শিখিয়ে দেয় না, বলেও দেয় না;
কাউকে জানাই না আর মনখারাপ এর পারদ যখন উঁচু হয়ে অবসাদের কোলে ঢলে পড়লেও,
কারণ আমরা জানি আপেক্ষিক গুরুত্ব আর সারাজীবন ধরে রাখার মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ রয়ে যায় বইকি।
যারা পারে তারা কখনো মুখ ফুটে বলে না বরং বলে আমি যতদিন আছি ততদিন পর্যন্ত এটুকু খেয়াল রাখতে পারি তোর মনের ক্যান্সারের,
তবে সারাজীবন ধরে পারব কি না জানি না।
অথচ যাদের থাকার কথা ছিল তারা কথা দিয়েও থাকে না,
তবুও অভিমান হলেও আর তারা জানতেও পারে না।
আসলে খরস্রোতা নদীর গল্প তো সবাই জানে,
কিন্তু সেই নদী যখন শান্ত স্নিগ্ধতার পরশ গায়ে একলা চুপি চুপি বয়ে যেতে থাকে হাসিমুখে তখন তার শান্ত হওয়ার কারণ  কেউ জানতে চায় না,
এভাবেই বিস্ফোরক অনুভূতি জমা হতে থাকে রাতের আলোছায়ার আড়ালে।।
©মেহুল শুনি

যদি কখনও

যদি আমি কখনো বলে উঠি এখানে যারা আবেগের বশে কবিতা লিখবে,
তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে,
যদি বলি যুদ্ধের ময়দানে রক্তের বন্যাই আমার প্রিয়,
ভালোবাসার ঘাসে বসে নিশ্চিন্তের বাক্যালাপের থেকে।
যদি বলি বইয়ের শব্দগুলোর প্রতি আমার একরাশ ঘেন্না আছে আমার জমিয়ে রাখা,
তুমি পাগল ভাববে আমাকে,
তাহলে নিঃশব্দে চুপিসারে চলে যেও।
আমায় ঘুণাক্ষরেও জানতে দিও না,
যদি আমি ভুল করে জানতে পারি তবে তীব্র ঘৃণার আগুন চোখ ঠিকরে তোমায় শাস্তিরূপে গিলে খেতে আসবে।।
আসলে আমাদের ভেতরের মানুষটাকে আমরা সকলের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে আগলে রাখি,
কিন্তু সেটা যদি দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হয়,
তাহলে তাহলে অনুভবের লেশমাত্র অবশিষ্ট থাকে না।
ভালো থাকার সব যড়যন্ত্রে লোকসমাগম না থাকলে যে ভালো থাকাটা আন্তরিকতার ছোঁয়াটুকুও না পেয়ে হিংস্র পশুদের মতো নখদাঁত বের করে খুবলে খেয়ে নিতে চায় জিঘাংসার কারণে।
-©মেহুল শুনি🌱✒️

পুজোর স্মৃতির ঝাঁপি

ছোটোবেলায় পুজো নিয়ে একটা আলাদাই উন্মাদনা ছিল, একটা যেন অন্য জগতের বাসিন্দা হয়ে যেতাম প্রত্যেকেই। পুজোর জামা, জুতো থেকে শুরু করে ঠাকুর দেখা ও শিউলি ফুল কুড়িয়ে আনার জন্য অঘোষিত উৎসবের আয়োজনে সবাই নির্ধিধ্বায় সম্মিলিত হবার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। মহালয়ার ভোরে চারটেয় ঘুম থেকে উঠে চাদর গায়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় রেডিওতে চণ্ডীপাঠ শোনা এবং বাঙালির সম্মিলিত ভোরবেলায় ওঠার যে আমেজ তার স্মৃতি যেন আজও এবং পরেও আমাদের মনে জ্বলজ্বল করে উঠবে।

আক্ষেপ

যাদবপুর এ প্রথম ভর্তির দিন থেকে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব, তারপর এ হওয়া বন্ধুত্ব, তারপর দ্বিতীয় বর্ষের শেষে হওয়া বন্ধুত্ব, সব ধরনের ঘটনা এক জায়গায় করলে মনে হয় আজ বোধহয় কেউ বোধহয় আজকাল দরকার না পড়লে মনে করার মস্ত দায়ভার কাঁধে তুলে নিতে চায় না।
আজ চার বছরের শেষে শুধু সরে যেতে যেতে এক কোণে পড়ে থাকা অভিমানের ধুলোজমা কাঁচে চোখের জল লেগে আছে, তার হয়তো কোনো দাম কারো কাছে নেই, কারণ সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, খুব কমজন ছাড়া এখন সেভাবে আর তাই কারো সাথে কথা হয় না।
হ্যাঁ অনার্স এর প্রথম দুই বছর আমার কাছে অ্যান্ড্রয়েড ছিল না কিন্তু একরাশ নির্ভেজাল বন্ধুত্ব ছিল,শান্তির এক জগতের একপশলা বৃষ্টি ছিল, ছিল নিজের জন্য ভালো থাকার উপায়, এখন আর নেই। অন্তর্জালের গ্রাসে গৃহবন্দী থাকার অমানুষিক যন্ত্রণা ও অকাল মৃত্যুর মতো সংসারের দায়বদ্ধতা যেন আমার ছেলেমানুষিকে কেড়ে নিয়ে ডিপ্রেশন, একাকীত্ব , মনখারাপ এর ঘেরাটোপে বেঁধে ফেলেছে, গল্পের বই পড়ার ইচ্ছে যেন কোথায় হারিয়েছে, আজকাল খুব মনে পড়ে এক নম্বর ঘরের বারান্দা, তিন নম্বর গেটের চা, তিন নম্বর হস্টেল এর সেই ১/৭ এর ঘর, আমার একলা থাকার সুখ। লাইব্রেরীর স্মৃতি আজকাল স্বপ্নের দেশে এসে এসে কাঁদিয়ে যায়। কবিতারা হারিয়েছে বহুদিন হলো, স্মৃতির ছবিতে স্টোরেজ নেই বলে বারবার জানান দেয় তবুও মুছে ফেলতে পারি না মায়ায় পড়ে। কত কথা হয়নি, কত অভিমান জমা রয়ে গেছে, কত ছবি শুধু কথা হয়ে গেছে। যে আমিকে যাদবপুর তৈরি করেছিল, চিনতে শিখিয়েছিল, জানতে পেরেছিল সে আজ মৃত। সময়ের ষড়যন্ত্রে সে এক অবয়ব মাত্র। যার থাকা না থাকাটা কোনো গুরুত্বের মধ্যে পড়ে না। দুবছর ধরে দূরে থাকাটা যেন নির্বাসনের গল্প, এ গল্পের রদবদল হলে জানিও। ফিরতে চাই…. ভালো থেকো যাদবপুর আর যারা আছো যাদবপুরকে জুড়ে। হয়তো আর কটা দিন তারপর নিশ্চিন্দিপুরের মতো যাদবপুর ও ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে একদিন, তার আগে যদি দেখা হতো… হবে না হয়তো… চলে যাওয়াটা বোধহয় এভাবেই আছে আমাদের কপালে। এবারে আর বাড়ি ফিরতে হবে বলে ব্যাগ গোছানোর নেই তাই বোধহয় শব্দ গোছাই স্মৃতি জুড়ে। যদি কারো খারাপ লাগে আমার কথায়, ক্ষমা করে দিও।

Design a site like this with WordPress.com
Get started