ভুলতে চাওয়া স্মৃতিগুলো পিছু টানে বারবার, মনে রাখার মুহুর্তরা দূরত্ব বজায় রেখে করে আয়োজন হারিয়ে যাওয়ার

ব্যস্ততম দিনের শেষে রাতের নিঃসঙ্গতা একগুচ্ছ স্মৃতি বয়ে আনে। তার মাদকতায় কিছু সময় আচ্ছন্ন হয়ে বিষন্ন আমি চিৎকার করি নিঃশব্দে অব্যক্ত যন্ত্রণায়। তখন মনে হয় যে কেউ পাশে থাকুক, কেউ যেন ভাগ করে যন্ত্রণার রেশ কমিয়ে নিঃশেষিত করে ঘুম পাড়িয়ে দিক আমায় রোজ রাতে। জানি না এই সুপ্ত ইচ্ছেগুলো হঠাৎই ধেয়ে আসে রাতের আঁধারে। তবুও তারা পিছু ছাড়ে না আর আজও আমারে। আসলে আমরা মনে রাখতে চাই যা ভুলে যায় অনভিপ্রেত অভ্যেসে, আর ভুলে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছেতে মনে থাকে সবকিছুই যা ছিল ভুলে যাওয়ার চেষ্টার পরের ধাপে।

শহরের কংক্রিটের ভিড়ে কাঠিন্য ভরা কৃত্রিম ভালো থাকার অভিনয় পাশাপাশি অন্যরকম ভালো থাকায় গ্রামের নিস্তব্ধ সবুজের সমারোহে অপরুপ প্রকৃতি….

শহরের প্রাণকেন্দ্রে আছে একরাশ ক্লান্তিতে ভেঙে পড়া ব্যস্ততার কোলাহল। রাতেও খানিকটা নিঝুম তবে একেবারে নিস্তব্ধ জীবন নয় বরংচ নিস্তব্ধতা রয়েছে চারপাশের পরিবেশে। যা কোনো নির্দিষ্ট কিছু শব্দে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। তা কেবল অনুভবের অভ্যেসে মানানসই গল্প। কারণ তাতে এক মায়ের স্নেহপূর্ণ স্পর্শে আরেক মায়ের নিঃশর্ত ভালোবাসা আছে। বকাঝকার আড়ালে লুকিয়ে থাকা তোমার জন্য ভালো চাওয়ার ইচ্ছে আছে। তোমার পছন্দের তালিকায় সবকিছু ঠিকঠাক রাখার মধ্যে তোমার জন্য একগুচ্ছ তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস আছে। তোমার চিন্তার কারণ হিসেবে তার চাইতে অনেক বেশি ভালো হওয়ার পথের দিকদিশা আছে, কিন্তু তা শহরের কৃত্রিমতায় অভ্যেসে দায়সারা চাওয়া আছে।

পাঠশালায় আড্ডা, গল্প বন্ধুত্বের মাঝে পড়াশোনার অদ্ভুত মিশেলে আজ অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করে যার রেশ রয়ে যায়….

অদ্ভুত ভালোলাগার অংশ হিসেবে জুড়ে আছে ইস্কুল জীবনের বারো বছরের এক সুবর্ণ অধ্যায় রয়েছে, যা বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না। এখনকার মতো ইগোর লড়াইয়ে লিপ্ত হতো না কেউ, বন্ধুত্ব খাঁটি সোনার মতো ছিল, আপাত দৃষ্টিতে তা খাদে ভর্তি জাল মুখোশের আবরণে ঢেকে রাখা ভালোমানুষের রুপে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি স্বার্থপরতার তাগিদে।

ক্লাসরুমের খুনসুটি, অভিমান মিশিয়ে একরাশ সোনালী স্মৃতি ভিড় করে আসে স্মৃতির পাতায়….

ব্যস্ততম দিনের শেষে রাতের নিঃসঙ্গতা একগুচ্ছ স্মৃতি বয়ে আনে। তার মাঝে মাঝে এক -আধটুকরো পরশপাথরের স্পর্শে একাকীত্বের চারাগাছ মহীরুহ হয়ে ওঠার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাই।

চারাগাছ মহীরুহ হয়ে ওঠার ধাপে….

চারাগাছ যতক্ষণ না মহীরুহ হয়ে ওঠে, ততদিন প্রত্যেক মুহুর্তে প্রতি পদে পদে অবহেলা, অযত্নে হলেও বড়ো হয়ে ওঠার ইচ্ছেপূরণে চেষ্টার ত্রুটি করে না। তাই মানুষের মধ্যেও এই গুণের কারণে অনেকে জীবনের পথে এগিয়ে যায়, আর যারা পারে না তারা হারিয়ে যায় আচমকাই এই পথে চলতে না পেরে কারণ জীবনের চড়াই- উতরাই পেরিয়ে সাফল্যের সিড়ি চড়া সহজ নয়, যতটা বলা বা ভাবা হয়। তাই এটুকু ভরসা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে যেকোনো ধরণের পরিস্থিতি থেকে জিতে জয়ী হওয়া যায় সহজেই জীবনযুদ্ধে।কিন্তু কিছু কিছু সময় এইসব পথপ্রদর্শক থাকা দরকার, তাহলে পথ চলতে সুবিধে হয়। কিন্তু অন্তর্জাল দুনিয়ার বাইরে একাকীত্ব ছাড়া আর কেউ নেই পাশে থাকার মতো, গোধূলির রাঙানো আকাশ উপভোগের সঙ্গী হিসেবে। তবুও আশ মেটে না চাওয়া-পাওয়ার, যে তোমাকে চাই না।তবুও পেতে চাই তোমায় না – পাওয়ার অভ্যেসে,বারবার তোমায় ছুঁতে চাওয়ার ইচ্ছেরা পাহাড়প্রমাণ হয়ে ওঠে।অবহেলার পারদে অপেক্ষায় ধৈর্য্যের যে পরীক্ষা তুমি নিচ্ছ তা পেরে ওঠা সম্ভব ছিল না, যদি আমার একরাশ স্বপ্নের প্রতি আমার জেদ ও লক্ষ্যে কাজ করতাম। সাথে কাছের মানুষগুলোর ভালোবাসা ও পাশে পাওয়ার ভরসা পাশাপাশি তাদের আশির্বাদের জোর না থাকত, তাহলে আমার হেরে যাওয়ার পর ও আত্মহত্যা ছাড়া দ্বিতীয় পথ খোলা থাকত না, জীবনের ওঠাপড়ায় একমাত্র মা আর বন্ধুরা ছাড়া কাউকে পাশে তো দূরের কথা, তাদের দুচোখ ভরা ঘেন্না যেন গিলে খেতো আমায় প্রতি মুহূর্তেই। আঘাত পেয়েছি অনেক মানুষের কাছ থেকেই, যারা একসময় ভালো মানুষের মুখোশ পরে ঘুরতে, আজ তারা আমার সহজ, সরল মানসিকতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থপূরণে দিব্যি আছে, তবে কৃতকর্মের ফল তো একদিন না একদিন পেতেই হয় সকলকে, তার অপেক্ষায় আছি আজও সব অপমান, অবহেলা, ঘেন্না, আঘাত সহ্য করে মায়ের মুখ চেয়ে আজও বেঁচে আছি, যে মানুষটা আজও আছে আমার পাশে এখনও পর্যন্ত। তাই হেরে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে করলে ও তা করার ইচ্ছে দমন করি বারংবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েও।আজ যে মানুষগুলো পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল একসময়, তারা আজ বিস্মৃতির আগ্রাসনে সব ভুলে বেশ আছে। হাসি পাই এইজন্যই যে এই মানুষগুলোকে একসময় চিনতাম, আজ তাদের সাথে সময় কাটানোর স্মৃতি গুমড়ে মরে মনের কোণায় আজও। অদ্ভুত সব চারপাশের পরিবেশ আজ চেনা মুখরিত দিনগুলো।

মেঘ বালিকা ও মৃত্যু উপত্যকা – সারাফাত হোসেন ( পর্যালোচনা)

প্রথমেই কবিতাগুলো পড়ে যতটুকু সম্ভব মনে হলো, যে সবগুলোর মধ্যে কোনো না কোনো বার্তা দেওয়া হয়। তাই দেখা গেছে যে একতরফা প্রেম, ভালোবাসার মৃত্যু ধর্মীয় গোঁড়ামিতে মানবতার মৃত্যুর শব্দে সাম্যের বেসুরো সঙ্গীতে ,নারীদের কথা, সমাজের বিভিন্ন ধরনের ঘটনা নিয়ে এক কোলাজ যেখানে রাজনীতি, সমাজের অবনতি, নারীদের স্বাধীনতায় আক্রমণ ঘটেছে, নির্যাতন সাথে ধর্ষণ, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কারো কাছে নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে দেওয়া নির্ধিধ্বায় অবলীলায়। যে যন্ত্রণার কথা কেউ বলেনি মুখ ফুটে তা নিপুণ হাতের দক্ষতার লেখনীর অপূর্ব নিদর্শন পাওয়া যায় “মেঘ বালিকা ও মৃত্যু উপত্যকা” কাব্যগ্রন্থের পাতায় পাতায়। প্রথম কবিতা “দ্রুত কমে আসছে ভালোবাসা”- তে সমাজের তথাকথিত একপেশে পুরোনো জং ধরা মরচে পড়া প্রথার বিরুদ্ধে বাঁচতে চাওয়ার ইচ্ছে দমন করেছে সমাজপতিরা। তবুও ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি ধর্মের নোংরামি তে। বিষাক্ত বাতাসে প্রেমের দমবন্ধ অবস্থায় ফুরিয়ে গেলো দুটো কলি ফুটে ওঠার আগেই ধৃষ্টতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ায়। মেয়েটির আক্ষেপ অদ্ভুত কষ্টের উদ্রেককারী। সে বারবার ভালোবাসতে চেয়েছে সব বাধাবিপত্তি ছাড়াই কেবল বিশুদ্ধ চিন্তাধারার সাথে। আর কোনো কিছু চাইনি মেয়েটা তার প্রেমিকের কাছে একটুকরো ভালোবাসায় মোড়া আকাশে তাদের স্বপ্নের ঘর বাঁধার ইচ্ছে ছাড়া। ছেলেটির মৃত্যুর ঘটনায় সবটুকুই আচমকা বদলে গেলো নিমেষেই। শুধুমাত্র কিছু মানুষের ক্ষমতালিপ্সায়। হেরে গেলো শুধু সমাজ, রাজনীতির অদ্ভুত কোলাজ। চিরন্তন শাশ্বত ভালোবাসা অমর হয়ে রয়ে গেলো সময়ের পাতায়। সত্যিই তাই”অক্সিজেনের মতো পৃথিবীতে দ্রুত কমে আসছে ভালোবাসা বিষাক্ত বাতাসে মিশে গিয়ে। “মানিয়ে নিতে হয়” কবিতায় একজন মেয়ের ধর্ষণের শিকার হওয়ার গল্পের সাথে মায়ের নিশ্চিত বিশ্বাস এ মানিয়ে নেওয়ার অভ্যেস বড়ো হয়ে উঠেছে। সব যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়েও আচমকা সে বলে না নিশ্চুপ ঘেন্নায়। যথেষ্ট পরিমাণে সচেতনার অভাবে অকালে ঝরে গেলো ফুটে ওঠার চেষ্টার আগেই। তবুও সে স্বপ্নপূরণের গল্প লেখা ছাড়েনি। তাই এখানে অদম্য স্পৃহা ও ইচ্ছে পূরণের হার না মানা গল্পের অদ্ভুত শৈলী পরিলক্ষিত হয়। “মৃত্যুর চেয়ে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে আছি ” কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির স্পষ্ট রুপ দেখানো হয়েছে। মানবতার মৃত্যুর আবহে মানবজাতির অধপতনে সমাজের রূঢ় বাস্তবেই অনেকখানি আসল রুপ বেরিয়ে কুৎসিত ছবি ফুটে উঠছে। শেষবেলায় খিদে আর ভয়ের চিত্র তুলে ধরেছে বাস্তবতার নিরিখে কঠিন রুপ।” স্বাধীনতা”অন্ধের মতো ভালোবাসার চরম আকারের পরিণতি হিসেবে মেয়ের মৃত্যুর আলিঙ্গনে। এখানে বিশ্বাসের জলাঞ্জলিতে প্রেম নামক পবিত্র প্রেম কলঙ্কিত হয়েছে। এখানে স্বাধীনতার আসল মানে বোঝানো হয়েছে। “অন্য ভালোবাসা” কবিতায় এক মেয়ের কথা বলা হয়েছে যে ভালোবাসতে চেয়েছে কিন্তু তাকে তার বাবা- মা, স্বামী কেউ বাসেনি ভালো কোনোদিন কোনোভাবেই ভুল করেও। অদ্ভুত একাকীত্বের অবসাদে মনের তাড়নায় সে আর একজনকে ভালোবাসে কিন্তু সমাজ দিয়েছে তার নাম পরকীয়া অবৈধ যা। সবকটিই অদ্ভুত সুন্দর তবে এগুলো বেশি ভালো লাগায় উল্লেখ করলাম। তবে কিছু জায়গায় বানান ভুল যা হয়ে ছাপানোর ভুল বলেই আমার ধারণা। আবেগের রেশ কোনোটিতেই কম নেই বললেই চলে।বাস্তবতায় চোখে আঙুল দিয়ে পরিস্থিতির ভালো থেকে খারাপের উচ্চতার পারদ বেশি তা দেখানো হয়েছে। মনের মতো বিষয়ের কবিতার বই পেয়ে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলছি আনন্দের আতিশয্যে। তবে কবি নিজেকে কবি বলে উল্লেখ করেননি তা নিয়ে একটা কথাই বলব যে প্রকৃত কবি, লেখক, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ছোটো গল্পকার কোনোভাবেই এত দ্রুত সাহিত্যিক হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার সাধনাকে উচ্চতার শিখরে পৌঁছে দেয়। ভালোলাগার অদ্ভুত আবেশ এখনও মনের মধ্যে রয়ছে গেছে যা শব্দে ব্যাখা করা সম্ভব নয়।

কাব্য র ক্লোনোসিনেশন এর পর্যালোচনা

বর্তমান প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পে অসাধারণ কল্পনাশক্তি আর কথার বাঁধুনিতে লেখনীর দক্ষতায় এক অন্য ধরনের কাহিনী রচিত হয়েছে। প্রেম – ভালোবাসার আবহে ধর্মীয় গোঁড়ামির আতিশয্যে আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে বাঁচতে চাওয়া এ গল্পের নায়িকা হেরে যায়নি বরংচ হেরে গিয়েও ভালোবাসা জিতে গেছে। উদার মানসিকতা ও মানবতার জয়গানে অসাম্যের কালি দিয়ে লেখা শব্দের পরাজয় ঘটেছে, ” অপেক্ষা বহু প্রেমিকার মন ভেঙেছিল, আগামীতেও ভাঙবে” – এই লাইনের সত্যতা যাচাই করতে পরবর্তী ধাপে পদার্পণ করতে হবে। তবে দেখা যাক কি আসে লেখনীর মুখে, হিমু যে প্রেমিকাকে মায়ের মতো ভালোবাসে যত্ন করে যেমন সে করত কাঠগোলাপ গাছ আর তা যেখানে জন্মেছে সেই জায়গাটুকু।কিন্তু এখানে নায়িকার বাবা তাকে মায়ের মতো ভালোবাসলেও সম্পূর্ণরূপে নয়, অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিল সংকীর্ণ মানসিকতার বশবর্তী হয়ে তবেই কেবলমাত্র। নাহলে তিনি সবটুকু মেনে নিতেন নির্ধিধ্বায় কোনোরকম বাছবিচার না করেই, যেখানে তার সন্তান সুখে শান্তিতে বসবাস করে সংসার জীবন অতিবাহিত করবে স্বাচ্ছন্দ্যে। না তা হওয়ার নয় কারণ ইগোর লড়াইয়ে বলি সে মেয়ে আর তার জন্য অর্কের মতো দেহসর্বস্ব লোভী মানুষরাই এগিয়ে আসে সবকিছু ধ্বংস করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে। এটা শুধু আজ নয় যুগে যুগে এইসব চলে আসছে বহমান কালের স্রোতের টানে। অদ্ভুতভাবে দাঙ্গার সময়কে এই গল্পের সালে জুড়ে দিয়ে এর ভয়াবহতা প্রকট করা হয়েছে। ক্লোনোসিজম, যার প্রভাব এ মানুষ জগতের সবকিছু ভুলে কল্পনার মধ্যে বিচরণ করে অবসাদে ভুগে ভুগে। তাই হিমুর মতো প্রেমিকরা বেঁচে থাকে আজও অবহেলা, ঘেন্না সাথে নিয়ে আদতে মরে গিয়েও থেকে যায় চিরন্তন শাশ্বত প্রেমের সম্পর্কে। আর অর্কর মতো লোকেরা তাদের লালসা চরিতার্থ করতে কোনো কিছু করতে পিছপা হয় না তার ইতিহাস আমাদের জানা। এখন অস্তিত্ব – অনস্তিত্ব হয়ে রয়ে গেছে জীবন্ত লাশের মতো বেঁচে থাকায়,সবটুকু বলে ফেলা হয়নি যা প্রেমিকার হিমুর জন্য জমা ছিল।বিবেক দংশনে তিলে তিলে মরে গেছিল প্রেমিকা কোনকালেই, শুধু অর্কর পালা বাকি ছিল, তা গল্পের শেষে স্পষ্টরূপে পরিলক্ষিত হয় তার অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হওয়ার যাতনা অনুভবে। শুধু রয়ে যায় ভালোবাসা স্মৃতিরুপে মনকাননে ঝরাপাতার মতো, যার রেশ শেষ হয়েও শেষ হয় না, এই গল্পেও সেটুকু রয়েছে অদ্ভুতভাবে।

Review of wish I could tell you by durjoy dutta

Wish I could tell you is the story of people around who rapped her character in a mask, who is but forced to change for a special reason. As a mentally broken, they have been conceived in a matter of mixing in the mind that they will not be like they want to live only for some minimum requirements instead of the nature.It’s an unconditional love story, where in the end love just wins but the man of love is not told how much he loves her.becuse it’s turned into a unique one sided love story.The charm or Anusha character pretty much controls her feelings and goes on with life, but in the end all remains incomplete. Ananth who think that so many people love that they gradually become cruel and introverted in response to sister’s untimely death and illness.but it’s a questioning about on the base of humanity because no one can come across to help him on that serious time when he needed too. But it’s also remains the bitter truth of the black side of digitals. Where people share everything which he or she can’t do. But also In reality he is nothing to doing anything in society. It’s a little bit more than just a story but touched my heart also have. Love only remains that’s why true love can’t United in the cryelity of life. But it’s still on our memeories which not enough to leaves so easily being a lonely. It’s too heartbreaking for who loves ones.

#অন্য লেখা (যাতে শুধু হারিয়ে যাওয়া ছোটবেলার সাথে দুম করে বড়ো হওয়া এক মেয়ের গল্প)

হারিয়ে ফেলার দুঃখ অনেকের কাছেই শুনতে পাই আমরা সাধারণত কমবেশি পরিমাণে, তবে কারো কাছে ছোটবেলা থেকেই এত কিছু হারিয়ে যাই যে তার কাছে নতুন করে কিছু হারানোর থাকে না, আমি হারিয়েছি আমার ছোটোবেলার ছবি যাতে আমার ভুলে যাওয়া স্মৃতির ঝরাপাতার পরশ ছিল, তবে আজ তা নেই আমার কাছে, আমার মতো আর চার পাঁচটা মানুষের মতো ছোটবেলা কাটেনি, শুধু অশান্তি আর বিষাক্ত সম্পর্কে জড়ানো দুজন মানুষের বিষোদগার উগলে দেওয়া দেখেছি, রাতের পর রাত মা কেঁদেছে আমাদের বড়ো করবে বলে, নিজের পরিচয় তৈরি করবে যাতে আমরা একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিলে তিলে না মৃত্যুর অপেক্ষা করি। হারিয়ে গেছে বিশ্বাস, প্রেম, ভালোবাসা, ভরসা নামক শব্দগুলো; পাতার পর পাতাজুড়ে কেবল ঘেন্না আর তিক্ততাপূর্ণ অক্ষর দিয়ে ভরা, অবুঝ ছিলাম বলে বুঝতাম না তখন, এখন বুঝতে শিখেছি বলে ঘেন্না হয় মাঝে মাঝে নিজের অস্তিত্বের ওপর কেবলই প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে। হারিয়ে গেছে আমার আঁকা খাতা, হারিয়ে গেছে আমার পুতুলের ঘর, একটুকরো অবশিষ্ট নেই আর, আমার আমিও হারিয়ে গেছে কবেই, আজ শুধু তার খোলসটুকু আছে পড়ে, কত মানুষের স্মৃতি বহন করে চলেছি আজও আমি একা একা জীবনের পথে।অথচ মা বাবার বিয়ে হয়েছিল ভালোবাসার বন্ধনে, আজ তা আলগা হতে হতে হারিয়ে গেছে আচমকাই , অদ্ভুত এক ধরনের চাপা কষ্ট হয় আজ দুজনকে দেখলে, অথচ একসময় গল্পটা অন্যরকম ছিল দেখা যায় না তাদের দেখলে, কিন্তু কিছু মানুষের খারাপ হওয়া আটকাতে না পারলে কি যে কষ্ট হয় তা না হলে বা অনুভব না করলে বোঝা যায় না, অদ্ভুত না বিষয়টা এক হাসিখুশি উচ্ছল চঞ্চল প্রকৃতির মেয়েটা দুম করে পরিবেশ, পরিস্থিতির চাপে পড়ে অন্তর্মুখী হয়ে গেলো। তার সবটুকু কেড়ে নেওয়ার দায় কে নেবে আজ? সমাজ, রাজনীতি না তুমি…..

শরীর খারাপ এ নেশাগ্রস্ত মন

শরীর খারাপ হলে আমার প্রথম দিকে খুব মনখারাপ হতো, কিন্তু এখন হয় না কারণ আমার ভীষণ ভালো লাগে, যদিও এই দুটো লাইন পড়ে আমাকে পাগল মনে হতেই পারে, তবে এইসময় সবাই যখন খোঁজ নেয় তখন একাকীত্ব,অবসাদ কমে যায় একনিমেষে হঠাৎ করেই, তাই কেবল মনে হয়ে নেশাকে মানুষ এত বড়ো দাম দিয়ে চলে কেন, লাভ কি ❓ তা থেকে কিছু ফিরে আসার উপায় তো নেই তবে ছেড়ে দেওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গেছে যে… তিলে তিলে জীবনকে কষ্টের পাল্লায় মেপে তাতে যে আনন্দ আছে তা আর কোনো কিছুতেই যে নেই, যে সৃষ্টি করে আর যে সেটার মধ্যে দিয়ে তৃপ্তি অনুভব করে তারও কিছু গুরুত্ব কম নয় তবে। কিন্তু কি আছে ওতে যে চরম আকার মূল্য পরিশোধ করেই তবে সেই আনন্দ কিনতে হবে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে, এতো স্বপ্নের মায়াজাল এ বিভ্রান্ত হওয়া ছাড়া আর কিছু নই যদিও , তবে এই ক্ষণিকের সুখ মানুষ হিসেবে পেতে চাই কেন আমরা, যতক্ষণ তোমার সৃষ্টি বহমান ততক্ষণ পর্যন্ত তার স্থিতি, তারপর কিন্তু বাস্তবের কঠোর চরম সত্যের মাঝে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া দুস্কর বলেই আমার মনে হয়। তাই এর যন্ত্রণার মিশেলে সুরের আস্বাদন থেকে বঞ্চিত হতে চাই না তাই আর….

Design a site like this with WordPress.com
Get started