আমি কোনোদিন সাহিত্যের সমালোচনা করার মতো ধৃষ্টতা করিনি একমাত্র অ্যাসাইনমেন্টের চাপ ছাড়া। তবে আজ রাতে বসে পড়লাম ধৃষ্টতার বশবর্তী হয়ে। দেখি কতদূর কি লিখতে পারি। মহাশ্বেতা দেবী সত্যিই এই উপন্যাসটি প্রাণের সমস্ত আবেগ নিংড়ে শব্দ দিয়ে পাঠকের মনের মতো সাহিত্যের পুরো কাহিনীটাকে।যদিও আমার ব্রতীকে সবথেকে বড়ো ভালো লেগেছে। কারণ সে কোনো বাঁধাধরা গতে বিশ্বাসী নয়, তাই জন্য সে চিরাচরিত বহমান সুখী জীবনের পথে ছেড়ে সমাজ বদলাবার ব্রতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তার প্রেমিকা নন্দিনী বা মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলেও দূর্বলতা কোনোদিন ও ছিল না । তাই সে সমাজের চিরাচরিত অসাম্যের প্রথাকে মুছে ফেলার বিপ্লবে সামিল হয়ে, যেখানে সে নিজেই ধনী অভিজাত পরিবারের সন্তান। সুজাতা ওরফে ” হাজার চুরাশির মা”- এর প্রধান তথা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তার ছেলেকে ঠিকমতো চিনতে পারেননি, যতোটা পরিমাণে সে স্পর্শকাতর মনের ছিল, সে ভয় পেত একসময় ছোটোবেলায়, সেই ছেলে ব্রতীই একদিন পুলিশের গুলিতে মারা গেলো আচমকাই বীভৎসভাবে। যে ব্যাপারটা তথাকথিত সমাজের বিখ্যাত ব্যবসায়ী অভিজাত শ্রেণীর প্রতিভূ দিব্যনাথ তথা ব্রতীও বাবা লেগে তা করে ফেললেন আর তার সাথে সাথে তার অস্তিত্ব মুছে গেলো সুজাতার মন থেকে একেবারে চিরদিনের মতো। কিন্তু ব্রতীকে সকলের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার যে প্রচেষ্টা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ না হলেও অঅ ব্যর্থতায়ম্ৃঢসখ অসিত হয়েছিল। নন্দিনী, সমুর মা, ভিখন, হেম এর মনে সে চিরকাল বেঁচে ছিল, সুজাতার মৃত্যুর পর তার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি শুধু, পাঠকের মনে আজীবন রয়ে যাবে তার অস্তিত্ব। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের স্বেচ্ছাচারিতা ও দম্ভের মিশেলে তৈরি নিকৃষ্ট স্বার্থপর মানুষ হলেন দিব্যনাথ। যার আদলে ঠাকুমার তত্ত্বাবধানে মানুষ হওয়া অন্তু, জ্যোতি, নীপা, তুলি তার যথার্থ প্রতিরূপ। স্বেচ্ছাচারী, চরিত্রহীন লোকের সংসারে একমাত্র বেমানান ছিলেন সুজাতা ও ব্রতী শুধুমাত্র দুজনেই। মুক্তিযুদ্ধের হাজার চুরাশির সংখ্যায় একজন তাই ব্রতীকে পাওয়া গেলো যে আরো অনেকের মতো পরিচয়হীন বেনামী মুছে ফেলা স্মৃতির মতো। যা করা হয়েছিল নিপুণ হাতের দক্ষতায়। দেশমাতৃকার সাথে মানব মায়ের বেদনার মেলবন্ধনের চিত্র অদ্ভুত সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। যন্ত্রণার আবেশে ঘেন্নার পরিমাণ কতো বেশি হলে একজন জলজ্যান্ত মানুষ জীবন্ত লাশের মতো হয়ে বেঁচে থাকে তিল তিল করে মরে যাওয়ার আশায়। মুক্তিযুদ্ধের আবহে সত্তরের দশকে এই উপন্যাস ট্র্যাজিক পরিণতি লাভ করে তা মানুষের মনে অনেকখানি জায়গা করে নেয়। সুজাতাকে সবাই মিলে হৃদয়হীণ বললেও তিনি তবুও তাঁর দায়িত্ব চুপ করে বসে অন্যদের মতো। একমাত্র সুজাতা জানে , যন্ত্রণার আবেশে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকছে কেবল। তার বহিঃপ্রকাশ সময়সময় নষ্ট হয় অপরজন যদি না বোঝে। কত সুজাতা আর ব্রতীর মতো মা- ছেলের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাই। তারা অত সহজে নিজের জন্য এবং ঘরে বাইরে নাড়ি ছেঁড়া ধনকে দেশের জন্য বলি প্রদত্ত। তবুও একবারও মুখ ফুটে কোনোদিনই বলে না। অদ্ভুত ভালোলাগার আবেশে এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় মর্মোপলব্ধি যে আর কিছু লিখলে শেষ হবে না।
একটুকরো আমি- কে হারিয়ে ফেলেছি
আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি অতীতের কালো রঙের রেখায়, বর্তমানের মুহুর্তের কোনো রসাস্বাদন গ্রহণের উৎসাহ অনুভব হচ্ছে না কোনোমতেই, কেবলই খালি মনে হয় কিছু যেন হারিয়ে যাচ্ছে আমার কাছ থেকে, কিন্তু কি হারিয়ে যাচ্ছে, কেন যাবে, গেলে কি হবে ; এইসব প্রশ্নের উত্তর তো খুঁজে পাচ্ছি না কোনোমতেই, তবুও খুঁজে চলেছি অবহেলায় পড়েও, তবুও ক্লান্তি ছাড়া আর কিছু আসে না তাই এখন আর, কি অদ্ভুত তাই না, মানুষ যেটা এড়িয়ে চলে সেটার নেশায় আক্রান্ত হয়ে তার মাদকতায় হারিয়ে যায় অস্তিত্বটুকুকে।
অন্ধকারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ আমি আলোর উচ্ছ্বসিত আবেগের সঙ্গে ঘটিয়েছি বিচ্ছেদ
একসময় ছোটোবেলায় এই অন্ধকার থেকে প্রচুর পরিমাণে ভয় পেতাম, আর খুঁজতাম মায়ের গলার স্বরের সাথে আলোর আভাস, আজ তা হয়েছে অতীতে নিমজ্জিত এক কাহিনী সংক্ষেপ, অদ্ভুত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি সেই “আমি”-র সাথে আজকের এই আমি। অদ্ভুত এক ধরনের বিষয় মনে হয় মাঝে মাঝে এটাকে, কিন্তু সময়ের সাথে বোধগম্যতার কারণে চারপাশের পরিবেশ বদলে শুধু স্বার্থের পচা গন্ধে কলুষিত আবহে একাকীত্বের গ্রাসে নিমজ্জিত হয়েছি আমি ক্রমশই। সেই ছোটোবেলার প্রিয়জনদের আঁকড়ে ধরে বাঁচার অভ্যেস আজ কমছে নিরন্তর প্রচেষ্টার তাগিদে, এত মানুষের মাঝে একাকী জীবন কাটানো মানুষের পরিমাণ বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়তই, তা হয়তো হিসেব করলে সংখ্যাটা কয়েক কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে।
Continue reading “অন্ধকারের সৌন্দর্যে মুগ্ধ আমি আলোর উচ্ছ্বসিত আবেগের সঙ্গে ঘটিয়েছি বিচ্ছেদ”ছোট্টো ভ্রমণকথায় একটুকরো “আমি”-র খোঁজ
মাঝে মাঝে এই শহরের কোলাহল ছেড়ে ফিরে আসি আমার শান্ত স্নিগ্ধ নিস্তব্ধ ছোট্ট গ্রামের কোলে, যেখানে এক মায়ের পরশে আরেক জন্মদাত্রী মায়ের ভালোবাসার ছোঁয়া অনুভূত হয় ক্লান্তির নিঝুম আবেশের মাঝে সতেজতার ফুরফুরে মেজাজে, সব ক্লান্তি, অবসাদ, চিন্তাভাবনার অবসান ঘটে কিছুদিনের জন্য, তাই সব মনখারাপ মিলিয়ে যায় আচমকাই ভালোবাসার মানুষের সংস্পর্শে এসে, ভুলে যাই রাতজাগা গল্পের বেনিয়মে অভ্যস্ত আমার প্রস্তুতির সময় জীবনের পথে অগ্রসর হওয়ার কারণে, নিজস্বতার মুখোশ খুলে হারিয়ে যাই সকলের সাথে ছোট্ট ছোট্ট মুহুর্তের আস্বাদনের স্বাদ পেতে, নিয়ে আসে একরাশ খুনসুটি, অভিমান, রাগের সাথে স্মৃতির ঝুলি ভরে সবার ভালোবাসা যা একটু একটু করে আমার” আমি” কে গড়ে তুলেছে; খাওয়াদাওয়া, আড্ডায়, ঘোরাফেরায়, বকাঝকায় টক- মিষ্টি- ঝালে ভরপুর জীবনের মজাই আলাদা থাকে এইটুকু সময়ের অবসর আচমকাই যায় যেন আবার যান্ত্রিক জীবনে ফিরে যাওয়ার ব্যস্ততম দিনে, তবুও শেষ হয়ে রেশটুকু রয়ে যায় বারবার।
মধ্যরাতের নিস্তব্ধতায় প্রেয়সীর জন্য রাতজাগা প্রেমিক লিখছে চিঠি চেনা ঠিকানায় তবে অচেনা মানুষ হিসেবে
তার প্রেয়সীর ঘরে জ্বলছে নিয়নের আলো, সে মেয়েটি মগ্ন তখন বইয়ের মাঝে, সে জানে না খোঁজ তার সে অচেনা প্রেমিকের, তবুও সে ছেলে লিখছে চিঠি তাকে তীব্র নিঃসঙ্গতার আবেশে হারিয়ে গিয়ে, কেউ নেই জেগে আশেপাশে, ঘুমন্ত নিঝুম আবেশের মাঝে জেগে আছে তারা দুইজন কেবল, তবুও যোগাযোগ নেই তাদের মাঝে, শুধুমাত্র একজনের অনুভূতির ঝড়ের দাপটের আঘাতে ছেলেটির জর্জরিত হওয়ার যন্ত্রণার আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা যাচ্ছে না, তবুও শোনার চেষ্টা কমতি নেই তবুও, কি অদ্ভুত না বিষয়টা, যে যাকে চাই তাকে পাই না অথচ ছুটে চলে কিসের নেশায় কেউ জানে না তার কারণ কি, কারণ খোঁজা অর্থহীন শুধুমাত্র অনুভব করা ছাড়া, এগুলোকে নিতান্তই পাগলামো ছাড়া কিছু না মনে হতেই পারে, তবে দিনদিন এই ধরনের মানুষের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে.. কিন্তু এই নিঃস্বার্থ প্রেমিকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে ক্রমশ, চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শুধু স্বার্থের মোহময় গন্ধ কেবলই, তার মাঝে মাঝে এইসব অন্যরকম গল্পগুলো সত্যি হলে বেশ লাগতো, একঘেয়ে জীবনের মধ্যে যেমন করে রামধনুর ছোঁয়া, তেমনই আবার মেঘলা আকাশে রোদ্দুরের আমেজ আসে আচমকাই, বেশ অন্য ধরনের অনুভূতি অনুভব হতো দীর্ঘশ্বাসের বদলে স্বস্তির নিঃশ্বাসে নিশ্চিন্তে ঘুমের দেশে স্বপ্নের আবেশে হারিয়ে গিয়ে, অনেক অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো আচমকাই বদলে যেতে আনন্দের ঘনঘটায়,হাসিমুখ নজর কাড়ত সোনালী রঙের তুলিতে আঁকা অনেক দিনের অপেক্ষার অবসানে…
সেখানে শুধু আজ স্মৃতির ঝরাপাতার শব্দ শোনা যায়।
©মেহুল শুনি

পাতাঝরা দিনে শীতের মরসুমে উষ্ণতার খোঁজে আমি হয়েছি নিরুদ্দেশ 🌸
হ্যাঁ মাঝে প্রচন্ড আঘাতে উষ্ণতার পরশের জন্য মন লালায়িত হয়, কারণ হিসেবে উত্তরের বদলে প্রশ্ন আঘাত হানে বারংবার ঘুরেফিরে, তবুও অন্বেষণ শেষ হয় না, তাই বারবার বেরিয়ে পড়ি তোমার দুয়ারে আমি পথিক বিশ্রামের তরে, দেবে না একটুখানি আশ্রয় আমায়, রইব না বেশিক্ষণ তোমায় করে বিব্রত বোধে জর্জরিত করে, তাই নিতান্তই অপ্রতুল অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি দুচার কথা আঘাতে আহত হয়ে অবশেষে, অজানা তুমি উপহার দিয়েছ আমায় এ অবহেলার উপহার, কৃতজ্ঞ থাকব আমি চিরদিন এইজন্য তোমার কাছে চিরদিন, লেখালেখি এখন আমার সঙ্গী তোমার বদলে একাকীত্ব যাপনে, তবুও ছাড়ছে না পিছু তোমার স্মৃতি আঁকড়ে ধরেছ এমন করে….
একাকীত্বের রসভঙ্গ
একাকীত্বের আস্বাদন মাঝে মাঝে নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে একাকী জীবন যাপন, কিন্তু সবসময় তা ভালো লাগে না একঘেয়েমি অবসাদে মনখারাপের আক্রমণে, লড়ে গিয়েও হার মেনে নিতে হয়, কিন্তু আত্মহত্যা ছাড়া দ্বিতীয় পথ কিন্তু খোলা থাকে না, যদি সত্যিই কেউ পাশে না থাকে। কিছু সময়ের জন্য এটাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রয়োজন কিন্তু সবসময় হতে থাকলে অবসাদের চাদরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আত্মহত্যার আহ্বান ভেসে ওঠে।
বন্ধুত্বের হারানো সোনালী পরশের গল্প
জানি না হঠাৎ পুরোনো সব বন্ধুত্বের গল্পের কথা কেনই বা আজ মনে পড়ল, তা হয়ত এক অপূর্ণ “আমি”সত্বার তীব্র আঙ্কাঙ্খায় পূর্ণতার আবেশে স্নিগ্ধ হতে চাওয়ায়, আবার আজ পুরোনো বন্ধুর সাথে কথা বলার কারণেও হতে পারে, জানি না কেন পুরোনো ধূসর স্মৃতি হঠাৎ ছেঁড়া তারে আবার গানের জোয়ার নিয়ে এলো, অত ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ আমার দ্বারা হবে না, সোজাসুজি বলেই ফেলি সেগুলো ছিল সোনালী অমূল্য সম্পদের ছোঁয়া,যা আজ পেতে চাইলেও পাবো না, শুধুই রয়ে যাবে শুন্যতার আবেশে স্মৃতির অনুরণন, যা আমাকে নিস্তব্ধ রাতে আবেগাপ্লুত করে। জানি না কেন আজ সত্যিই বলতে ইচ্ছে করে হোক না একবার সেই গল্পের অসমাপ্ত কাহিনী নিয়ে পুনর্মিলন উৎসব। আবার দেখা হোক ছোটোবেলার নিস্পাপ মুখগুলোর পরষ্পরের। হয়ত অনঅনেক মান – অভিমানের ছোঁয়ায় মরচে পড়েনি, বরং রয়ে গেছে তরতাজা ভালোবাসা। আজ খুব করে পেতে ইচ্ছে করছে হারানো খুনসুটি, ঝগড়া, পাগলামি, আড্ডার নির্ভেজাল নিখাদ বন্ধুত্বের পরশ। আজ অন্তর্জাল দুনিয়ার আক্রমণের আঘাতে নিঃশেষিত আবেগ। সবই আছে তবুও কোথাও যেন শুন্যতার আবেশে কিছু একটা নেই এটাই অনুভব হচ্ছে বারবার। কি অদ্ভুত ভালোলাগার রেশে পরিপূর্ণ আনন্দমুখর দিনগুলো ছিল।
সময়ের নদীতে কিছু নুড়িপাথরে জমানো স্মৃতির পরশপাথরের ছোঁয়ায় সোনা হওয়ার অদম্য স্পৃহায়
আমি বেশ আছি এই শহরের ভিড়ে একাকী পথিকের বেশে, বয়ে চলেছি একরাশ স্মৃতি বহন করে, তবুও এগুলো সোনালী মুহুর্তের রসাস্বাদনে তৃপ্তির স্বাদে মুগ্ধতার রেশ তৈরি করে চলে অবিরাম ধারায় প্রবাহিত হয়ে, তবুও মুছে ফেলতে ইচ্ছে হলেও পারি না কারণ এগুলো আমার জীবনের অমূল্য সম্পদ, তাই অবসাদের নিমজ্জিত অতলে তলিয়ে গিয়েও আমি অপারগ। কত মানুষ আসে কিছু মুহুর্তের জন্য, আবার দমকা হাওয়ার মতো ফিরে যায় কোন ভিড়ে, হাজার চাইলেও খুঁজেও পাওয়া যায় না, তবুও বেঁচে থাকাটা মন্দ লাগে না আর এখন, এখন কেবল লাগে ভালো প্রকৃতির নিস্তব্ধতার আলিঙ্গনে হারিয়ে যেতে। আর ইচ্ছে করে না একরাশ ভিড়ে অবহেলার সম্পর্কের দায়ভার বয়ে বেড়াতে। মনে হয় কারো কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ভুলে যাই সকল ক্লান্তির রেশ। কিন্তু থেকেও যে সে নেই জানি তবুও এ মন মানতে রাজি হয় না চরম সত্যের এই শহরের হৃদয় ভেঙে যাওয়ার গল্পের বাস্তবতা।
বড়োদের জটিল চিন্তাধারার সঙ্গে ছোটোদের সরলতার সংঘাত
বড়োরা যখন ছোটোদের ব্যাপারে অতিরিক্তমাত্রায় মাতামাতি করে, স্বভাবতই বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। আলোচনা প্রসঙ্গে আমি একটি গল্পের উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি, তা হলো গল্পে কয়েকটি বাচ্চা ডাংগুলি খেলছিল কিন্তু আচমকাই তাদের মধ্যে ঝামেলা বাঁধার কারণে মারামারি শুরু হয়, আর সেখানে একজন বাচ্চার মাথায় আঘাত লাগে। তারপর সেটা নিয়ে দুপক্ষের বাড়িতে খবর যায়। তারপর তা নিয়ে ঝামেলা এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছে যায় যে চন্ডীমন্ডপে বিচারসভা বসে যায় এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। সেইসময় সেখানেই ঐ বাচ্চাগুলো আবার খেলতে আসে এবং ক্ষমা চেয়ে খেলতে শুরু করে। তখন একজন বৃদ্ধ বলেন যে তোমরা যেটা নিয়ে এতক্ষণ মাতামাতি করছিলে সেটা ওরা নিমেষে মিটিয়ে ফেলল। তাই পাগলামি না করে ওদেরকে ওদেরটা বুঝে নিতে দিও, অযথা ঝামেলা পোহানোর দরকার পড়বে না। এটা আমার জীবনে বহুবার ঘটেছে। যেখানে যখনই আমাদের ছোটোদের ঝামেলার মধ্যে বড়োরা মাথা গলাতে শুরু করেছে তখনই ব্যাপারটা সামান্য হলেও জটিল আকার ধারণ করেছে। আসলে আমরা ছোটোদের যে দৃষ্টিভঙ্গিতে সবকিছু নিরীক্ষণ করে সবকিছু স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করি, এরা তা করে না। উপরন্তু দোষারোপ করে বিষয়টাকে ছোট থেকে বড়ো করে ফেলে। তাই সেটা ছোট গল্পের জায়গায় উপন্যাস বা প্রবন্ধে শেষ হয়। বলাই বাহুল্য ব্যাপারটা তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। যে গল্পের কথা বললাম সেটার নাম মনে নেই আমার। আর এজন্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে আমায়। আর এখন এসবে তেমন গা করি না। মমচির